যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে হ্যান্ডলিং শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির কারণে পণ্য ওঠানো-নামানোর সব কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। প্রয়োজনীয় ক্রেন ও ফর্কলিফট সরবরাহ, ন্যায্য মজুরি বৃদ্ধি, শ্রমিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের দাবিতে রবিবার (১৪ জুন, ২০২৬) সকাল থেকে এ কর্মসূচি শুরু করেন শ্রমিকরা।
কর্মবিরতির ফলে বন্দরে আমদানি হওয়া বিভিন্ন পণ্য খালাস কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে। এতে বন্দরজুড়ে তৈরি হয়েছে স্থবিরতা, আর আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা।
শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ, বন্দরে পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজে প্রয়োজনীয় ক্রেন ও ফর্কলিফটের সংখ্যা চাহিদার তুলনায় অনেক কম। ফলে শ্রমিকদের দীর্ঘ সময়, এমনকি গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা সমাধানের দাবি জানানো হলেও কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ।
তারা আরও জানান, সম্প্রতি চালু থাকা কয়েকটি ক্রেন ও ফর্কলিফটও বিকল হয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। সাত দিন আগে নতুন যন্ত্রপাতি সরবরাহের জন্য আল্টিমেটাম দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো নতুন সরঞ্জাম না আসায় পূর্বঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শ্রমিকরা কর্মবিরতিতে যান।
শ্রমিকদের দাবি, বেনাপোল বন্দরে বর্তমানে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির অধিকাংশই পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ। এসব সরঞ্জাম দিয়ে কাজ করতে গিয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের অভাব এবং শ্রমিক কল্যাণে উদাসীনতার অভিযোগও তোলেন তারা।
শ্রমিক নেতারা জানান, প্রায় ১৪ বছর আগে প্রতিটন পণ্যে মজুরি ছিল ১৮ টাকা, যা এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। অথচ জীবনযাত্রার ব্যয় বহুগুণ বেড়েছে। তারা বর্তমানে প্রতিটনে ২৮ থেকে ৩৫ টাকা মজুরি নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে শ্রমিকদের ক্ষোভের অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে সাম্প্রতিক একটি দুর্ঘটনা। প্রায় দুই মাস আগে একটি ক্রেনের তার ছিঁড়ে পড়ে একজন শ্রমিক নিহত এবং আরেকজন আহত হন। ওই ঘটনার পর ক্ষতিপূরণ ও নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনো কোনো সহায়তা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন শ্রমিক নেতারা।
বেনাপোল হ্যান্ডলিং শ্রমিক (৯২৫) ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সহিদ আলী বলেন, নতুন ক্রেন ও ফর্কলিফট সরবরাহ, ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ, শ্রমিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার দাবিতে এই কর্মবিরতি চলছে।
কর্মসূচি চলাকালে অনুষ্ঠিত শ্রমিক সমাবেশে ইউনিয়ন ৯২৫-এর সাধারণ সম্পাদক মো. সহিদ আলী, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তবিবুর রহমান তবি, ইউনিয়ন ৮৯১-এর সভাপতি মাকসুদুর রহমান রিন্টু, দপ্তর সম্পাদক গোলাম মোস্তফা প্রমুখ বক্তব্য দেন।
সিএ/এমই


