ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বয়ঃসন্ধির আগেই সংরক্ষণ করা অণ্ডকোষের টিস্যু ব্যবহার করে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রজননক্ষমতা ফিরিয়ে আনার ঘটনা এবারই প্রথম। গবেষণাটিকে চিকিৎসা ইতিহাসে এক বড় অগ্রগতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বর্তমানে ২৭ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি শিশু অবস্থায় ‘সিকেল সেল’ রোগে আক্রান্ত ছিলেন। মাত্র ১০ বছর বয়সে তার শরীরে উচ্চমাত্রার কেমোথেরাপি প্রয়োগ করা হয়। চিকিৎসকেরা তখন আশঙ্কা করেছিলেন, ভবিষ্যতে তিনি প্রজননক্ষমতা হারাতে পারেন। সে কারণেই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার একটি অণ্ডকোষের টিস্যু সংগ্রহ করে হিমায়িত অবস্থায় সংরক্ষণ করা হয়।
গবেষণার নেতৃত্বদানকারী বেলজিয়ামের ভ্রিজে ইউনিভার্সিটি ব্রাসেলসের অধ্যাপক এলেন গুসেনস বলেন, এই সাফল্য ভবিষ্যতে বহু রোগীর জন্য নতুন আশার বার্তা হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে যেসব শিশুর টিস্যু আগে থেকেই সংরক্ষিত আছে, তারা ভবিষ্যতে নিজের সন্তানের স্বপ্ন দেখতে পারবেন।
গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপির মতো চিকিৎসা ক্যান্সার কিংবা সিকেল সেল রোগে আক্রান্ত শিশুদের জীবন বাঁচালেও এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় অনেকেই চিরতরে সন্তান জন্মদানের সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন। বয়ঃসন্ধির পর রোগীদের শুক্রাণু সংরক্ষণের সুযোগ থাকলেও শিশুদের ক্ষেত্রে সেই সুযোগ নেই। এ কারণেই ২০০২ সালে বেলজিয়ামের একটি ক্লিনিক প্রথমবারের মতো শিশুদের অণ্ডকোষের টিস্যু সংরক্ষণ শুরু করে।
গবেষণায় দেখা গেছে, গত বছর ওই ব্যক্তির শরীরে সংরক্ষিত টিস্যুর কয়েকটি অংশ পুনরায় প্রতিস্থাপন করা হয়। এক বছর পর সেগুলো পরীক্ষা করে দেখা যায়, টিস্যুর দুটি অংশে পরিপক্ক শুক্রাণু তৈরি হয়েছে। বর্তমানে সেই শুক্রাণু হিমায়িত অবস্থায় সংরক্ষণ করা হয়েছে।
তবে গবেষকেরা জানিয়েছেন, এসব শুক্রাণু স্বাভাবিকভাবে বীর্যের সঙ্গে মিশতে পারবে না। ফলে ভবিষ্যতে সন্তান নেওয়ার জন্য আইভিএফ বা কৃত্রিম প্রজনন পদ্ধতির প্রয়োজন হবে।
অধ্যাপক গুসেনস বলেন, “আলাদা করা শুক্রাণুগুলো দেখতে স্বাভাবিক ছিল। তবে এগুলো ডিম্বাণু নিষিক্ত করতে সক্ষম কি না, সেটি এখনো পরীক্ষা করা বাকি।”
যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব এডিনবরার শিশু এন্ডোক্রিনোলজিস্ট অধ্যাপক রড মিচেলও একই ধরনের গবেষণা পরিচালনা করছেন। তিনি বলেন, মানুষের শরীরে এ পদ্ধতি কার্যকর হওয়ার বাস্তব প্রমাণ পাওয়া সত্যিই বিস্ময়কর।
বিশ্বজুড়ে বর্তমানে তিন হাজারের বেশি রোগীর অণ্ডকোষের টিস্যু সংরক্ষিত রয়েছে। গবেষকদের ধারণা, ভবিষ্যতে প্রতি বছর বহু রোগী এ প্রযুক্তির মাধ্যমে উপকৃত হতে পারবেন।
সূত্র: গার্ডিয়ান


