বিজ্ঞানীরা বলছেন, বজ্রপাতের মূল কারণ বায়ুমণ্ডলে স্থির তড়িৎ বা স্ট্যাটিক ইলেকট্রিসিটির সৃষ্টি। সব বস্তুই পরমাণু দিয়ে গঠিত। প্রতিটি পরমাণুর মধ্যে থাকে ধনাত্মক প্রোটন, নিরপেক্ষ নিউট্রন ও ঋণাত্মক ইলেকট্রন। কোনো বস্তুর মধ্যে ইলেকট্রনের ভারসাম্য নষ্ট হলে সেখানে বৈদ্যুতিক চার্জ তৈরি হয়।
দুটি বস্তুর মধ্যে ঘর্ষণ ঘটলে একটির ইলেকট্রন অন্যটিতে চলে যেতে পারে। ফলে একটি বস্তু ঋণাত্মক এবং অন্যটি ধনাত্মক চার্জ ধারণ করে। শীতকালে চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ানোর পর ছোট কাগজের টুকরা চিরুনির সঙ্গে আটকে যাওয়ার ঘটনাও একই বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ার উদাহরণ।
বিজ্ঞানীদের মতে, সূর্যের তাপে জলীয়বাষ্প ওপরে উঠে মেঘ তৈরি করে। মেঘের ভেতরে পানিকণা ও বরফকণার সংঘর্ষের ফলে বিপুল পরিমাণ বৈদ্যুতিক চার্জ জমা হয়। এ সময় কিছু অংশ ধনাত্মক ও কিছু অংশ ঋণাত্মক চার্জে পরিণত হয়। যখন এই চার্জগুলোর মধ্যে ভারসাম্য নষ্ট হয়, তখন শক্তিশালী বৈদ্যুতিক স্রোত তৈরি হয়ে বজ্রপাত ঘটে।
বজ্রপাত সাধারণত তিন ধরনের হয়ে থাকে। মেঘের ভেতরে বজ্রপাত, এক মেঘ থেকে অন্য মেঘে বজ্রপাত এবং মেঘ থেকে মাটিতে বজ্রপাত। এর মধ্যে মেঘ থেকে মাটিতে হওয়া বজ্রপাত সবচেয়ে বেশি প্রাণঘাতী। কারণ এ সময় মেঘের নিচের অংশে জমা হওয়া ঋণাত্মক চার্জ ভূমির ধনাত্মক চার্জের সঙ্গে মিলিত হওয়ার চেষ্টা করে। মাঝখানে থাকা বাতাস আয়নিত হয়ে বিদ্যুৎ পরিবাহকের মতো কাজ করলে বজ্রপাত সৃষ্টি হয়।
বিশেষজ্ঞরা জানান, বজ্রপাতের সময় তৈরি হওয়া বৈদ্যুতিক ভোল্টেজ প্রায় ১০ কোটি ভোল্ট পর্যন্ত হতে পারে। এতে বাতাসের তাপমাত্রা ২৭ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা সূর্যের তাপমাত্রার চেয়েও কয়েক গুণ বেশি। এই অতিরিক্ত তাপের কারণে বাতাস দ্রুত প্রসারিত ও সংকুচিত হয়। আর সেখান থেকেই সৃষ্টি হয় বজ্রধ্বনি।
বজ্রপাত থেকে সুরক্ষায় কিছু সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ, নদী বা জলাশয়ের পাশে অবস্থান না করা, বড় গাছের নিচে আশ্রয় না নেওয়া এবং পাকা ভবনে আশ্রয় নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ বলে মনে করা হয়। মোটরসাইকেল বা সাইকেলে থাকলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে যেতে হবে। এছাড়া বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির প্লাগ খুলে রাখা এবং বজ্রপাতের সময় ধাতব বস্তু স্পর্শ না করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবীতে প্রতি সেকেন্ডে কোথাও না কোথাও প্রায় ১০০টি বজ্রপাত ঘটে। তবে সচেতনতা ও সতর্কতা বাড়ানো গেলে প্রাণহানি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
সূত্র: ডেইলি স্টার, দৈনিক প্রথম আলো, উইকিপিডিয়া
সিএ/এমআর


