ব্যক্তিগত স্বার্থ, প্রতিহিংসা, রাজনৈতিক বিরোধ কিংবা সাময়িক সুবিধা অর্জনের উদ্দেশ্যে অনেক সময় মানুষ অন্যের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ও অপবাদ ছড়িয়ে থাকে। আবার কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই না করেই তা প্রচার করার প্রবণতাও সমাজে দেখা যায়। ইসলামের দৃষ্টিতে এসব কাজ শুধু অনৈতিক নয়, বরং গুরুতর গুনাহ হিসেবে বিবেচিত।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন,
“আর যে ব্যক্তি কোনো অপরাধ বা গুনাহ করে, অতঃপর তা কোনো নির্দোষ ব্যক্তির ওপর চাপিয়ে দেয়, সে তো এক মহা অপবাদ ও প্রকাশ্য পাপের বোঝা বহন করল।” (সুরা নিসা: ১১২)
ইসলাম মানুষের সম্মান, মর্যাদা ও সামাজিক স্থিতিশীলতাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। মিথ্যা অপবাদ একজন নিরপরাধ মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনকে বিপর্যস্ত করে দিতে পারে। একই সঙ্গে এটি সমাজে বিভ্রান্তি, অবিশ্বাস ও অস্থিরতার জন্ম দেয়।
এ বিষয়ে রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
“যে ব্যক্তি কোনো মুমিন সম্পর্কে এমন কথা বলে যা তার মধ্যে নেই, আল্লাহ তাকে জাহান্নামের পুঁজ ও রক্তের স্থানে রাখবেন, যতক্ষণ না সে তার উক্তির দায় থেকে মুক্ত হয়।” (সুনান আবু দাউদ)
শুধু অপবাদ দেওয়া নয়, কোনো তথ্য যাচাই ছাড়া প্রচার করাও ইসলামে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। কারণ এ ধরনের আচরণ মিথ্যা সংবাদ ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দিতে সহায়তা করে। এ প্রসঙ্গে রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
“মানুষের মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শোনে তা-ই (যাচাই ছাড়া) বর্ণনা করতে থাকে।” (সহিহ মুসলিম)
বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের কারণে তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ফলে কোনো সংবাদ, অভিযোগ বা তথ্য শেয়ার করার আগে তার সত্যতা যাচাই করা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি ভুল বা মিথ্যা তথ্য একজন নিরপরাধ ব্যক্তির সম্মান, পরিবার, পেশাগত জীবন এবং সামাজিক অবস্থানকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে দায়িত্বশীল আচরণ এবং তথ্য যাচাইয়ের সংস্কৃতি গড়ে তোলা জরুরি।
সাময়িক লাভ, ব্যক্তিগত রাগ কিংবা দলীয় স্বার্থের কারণে অন্যের প্রতি অন্যায় আচরণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামি চিন্তাবিদরা। তাদের মতে, মানুষের চোখ ফাঁকি দেওয়া সম্ভব হলেও মহান আল্লাহর কাছে প্রতিটি কথা ও কাজের হিসাব দিতে হবে।
সিএ/এমআর


