ইসলামি শিক্ষায় বলা হয়েছে, মৃত্যুর স্মরণ মানুষকে পাপ থেকে দূরে রাখতে সহায়তা করে। যখন কেউ উপলব্ধি করে যে জীবনের সমাপ্তি যেকোনো সময় আসতে পারে, তখন অন্যায় কাজের প্রতি আকর্ষণ কমে আসে এবং সৎকর্মের প্রতি মনোযোগ বাড়ে।
আল্লাহ-তাআলা বলেন, “প্রত্যেক প্রাণীই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে।” (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৮৫)
ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, মৃত্যুর চিন্তা মানুষকে দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী মোহ থেকে বেরিয়ে আসতেও সহায়তা করে। সম্পদ, পদমর্যাদা কিংবা সামাজিক অবস্থান যে স্থায়ী নয়, সেই উপলব্ধি মানুষকে সংযমী ও বাস্তববাদী করে তোলে।
রাসুল (সা.) বলেছেন, “তোমরা দুনিয়ার ভোগ-বিলাস বিনষ্টকারী তথা মৃত্যুকে অধিক পরিমাণে স্মরণ কর।” (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৩০৭)
মৃত্যুচিন্তা সময়ের মূল্য বুঝতেও সাহায্য করে। জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত সীমিত—এই উপলব্ধি মানুষকে সময়ের যথাযথ ব্যবহার এবং কল্যাণকর কাজে মনোযোগী হতে উদ্বুদ্ধ করে।
তাবেয়ি হাসান বসরি (রহ.) বলেছেন, “হে আদম সন্তান, তুমি তো কয়েকটি দিনের সমষ্টি। একটি দিন চলে গেলে তোমার জীবনের একটি অংশও চলে যায়।” (হিলয়াতুল আওলিয়া ওয়া তাবাকাতুল আসফিয়া: ২/১৪৮)
অন্যদিকে অহংকার ও আত্মগর্ব মানুষের নৈতিক অবক্ষয়ের কারণ হতে পারে। মৃত্যুর বাস্তবতা মানুষকে মনে করিয়ে দেয় যে পৃথিবীর সব ক্ষমতা, সম্পদ ও মর্যাদার শেষ পরিণতি একই। ফলে হৃদয়ে বিনয় জন্ম নেয়।
নবীজি (সা.) বলেছেন, “যার অন্তরে অণু পরিমাণ অহংকার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৯১)
বিশ্লেষকদের মতে, মৃত্যুকে স্মরণ করার সবচেয়ে বড় উপকারিতা হলো এটি মানুষকে আখিরাতের প্রস্তুতির দিকে ধাবিত করে। আত্মসমালোচনা, ইবাদত এবং নৈতিক জীবনযাপনের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি নিজের লক্ষ্য ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হতে পারেন।
নবীজি (সা.) বলেছেন, “বুদ্ধিমান সেই ব্যক্তি, যে নিজের নফসের হিসাব নেয় এবং মৃত্যুর পরের জীবনের জন্য আমল করে।” (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৪৫৯)
সিএ/এমআর


