ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, হজ মানুষের অন্তরে খোদাভীতি, আত্মশুদ্ধি এবং আখিরাতমুখী চিন্তার বিকাশ ঘটায়। ইহরামের পোশাক মানুষকে সাম্যের শিক্ষা দেয়, আরাফার ময়দান স্মরণ করিয়ে দেয় কেয়ামতের সমাবেশকে এবং কাবা শরিফকে কেন্দ্র করে তাওয়াফ জীবনের মূল লক্ষ্যকে আল্লাহর সন্তুষ্টির দিকে পরিচালিত করার শিক্ষা দেয়।
হাদিসে এসেছে, ‘কবুল হজের প্রতিদান জান্নাত ছাড়া আর কিছু নয়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৭৭৩)
হজের পর পরিবর্তন ধরে রাখতে প্রথম শর্ত হিসেবে ইবাদতের ধারাবাহিকতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নিয়মিত নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত ও অন্যান্য নেক আমলের মাধ্যমে আত্মিক উন্নতি বজায় রাখা সম্ভব।
নবীজি (সা.) বলেন, ‘আল্লাহর কাছে সেই আমলই সবচেয়ে প্রিয়, যা নিয়মিত করা হয়, যদিও তা পরিমাণে অল্প হয়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৪৬৫)
ইসলামি শিক্ষায় গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। হজের সময় যেমন মানুষ নিজেকে অন্যায় ও অশ্লীলতা থেকে দূরে রাখে, তেমনি হজ-পরবর্তী জীবনেও সেই সংযম বজায় রাখা প্রয়োজন।
আল্লাহ–তাআলা বলেন, ‘তোমরা যদি সেই সব কবিরা (বড়) গুনাহ থেকে বেঁচে থাকো, যা থেকে তোমাদের নিষেধ করা হয়েছে, তবে আমি তোমাদের ছোটোখাটো পাপসমূহ মোচন করে দেব এবং তোমাদের সম্মানজনক স্থানে (জান্নাতে) প্রবেশ করাব।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ৩১)
এ ছাড়া সৎ ও দ্বীনদার মানুষের সান্নিধ্য আত্মিক উন্নয়ন ধরে রাখতে সহায়ক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ মানুষের চিন্তা, আচরণ ও আমলের ওপর তার পরিবেশের প্রভাব অনেক বেশি।
নবীজি (সা.) বলেন, ‘মানুষ তার বন্ধুর আদর্শ ও জীবনধারা অনুসরণ করে। অতএব, তোমাদের প্রত্যেকের লক্ষ রাখা উচিত, সে কাকে বন্ধু বানাচ্ছে।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪৮৩৩)
ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, হজের সময়ের স্মৃতি ও অনুভূতিগুলো হৃদয়ে জীবন্ত রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। কাবার সামনে দাঁড়িয়ে করা দোয়া, আরাফার ময়দানের আবেগঘন মুহূর্ত কিংবা মদিনার স্মৃতি বারবার মনে করলে ইমানি অনুভূতি জাগ্রত থাকে এবং মানুষ আল্লাহমুখী জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ হয়।
সিএ/এমআর


