গুগলের ‘রেজাল্টস অ্যাবাউট ইউ’ সুবিধার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা প্রথমে যাচাই করতে পারেন, তাদের কোনো ব্যক্তিগত তথ্য সার্চ ফলাফলে প্রদর্শিত হচ্ছে কি না। এ জন্য নিজের গুগল অ্যাকাউন্টে সাইন ইন করে ফোন নম্বর, ই-মেইল বা ঠিকানার মতো তথ্য পর্যবেক্ষণের জন্য যুক্ত করতে হয়। এরপর ই-মেইল বা অ্যাপ নোটিফিকেশনের মাধ্যমে সতর্কবার্তা পাওয়ার পদ্ধতি নির্ধারণ করা যায়।
প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দেওয়ার পর গুগল একটি প্রতিবেদন তৈরি করে, যেখানে উল্লেখ থাকে কোন কোন ওয়েবসাইটে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য পাওয়া গেছে। একই প্ল্যাটফর্ম থেকে ভবিষ্যতে নতুন তথ্য শনাক্ত করা এবং অপসারণের আবেদন সংক্রান্ত অগ্রগতিও দেখা সম্ভব। প্রথমবার স্ক্যান সম্পন্ন হতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।
গুগল সার্চের ফলাফল থেকে তথ্য সরানোর জন্য সংশ্লিষ্ট ফলাফলের পাশে থাকা তিন ডট মেনুতে ক্লিক করে ‘রিমুভ রেজাল্ট’ অপশন নির্বাচন করতে হয়। এরপর অপসারণের কারণ উল্লেখ করে আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদন পর্যালোচনা শেষে গুগল ব্যবহারকারীকে নোটিফিকেশনের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত জানায়।
গুগল বিভিন্ন ধরনের সংবেদনশীল তথ্য অপসারণের সুযোগ দিয়ে থাকে। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি পরিচয়পত্রের নম্বর, ব্যাংকিং তথ্য, ক্রেডিট কার্ডের তথ্য, লগইন তথ্য, ব্যক্তিগত স্বাক্ষর, চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি, আপত্তিকর ছবি এবং অনুমতি ছাড়া তৈরি ডিপফেক কনটেন্ট। এসব ক্ষেত্রে গুগলের নির্ধারিত সহায়তা পেজে গিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য ও ওয়েব ঠিকানা জমা দিতে হয়।
তবে সার্চ ফলাফল থেকে কোনো তথ্য অপসারণ করা হলেও মূল ওয়েবসাইটে তা থেকে যেতে পারে। তাই প্রথমেই সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটের মালিক বা প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ করে তথ্য মুছে ফেলার অনুরোধ করা উচিত। প্রয়োজনে পরে গুগলের অপসারণ প্রক্রিয়ার সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।
অনেক সময় কোনো ওয়েবসাইট থেকে তথ্য বা ছবি সরিয়ে ফেলার পরও গুগল সার্চে পুরোনো সংস্করণ দেখা যায়। সাধারণত ক্যাশে সংরক্ষিত তথ্যের কারণে এমনটি ঘটে। এ ক্ষেত্রে ‘রিমুভ আউটডেটেড কনটেন্ট’ টুল ব্যবহার করে পুরোনো তথ্য বা ছবি সরানোর আবেদন করা যায়।
আবেদন জমা দেওয়ার পর গুগল প্রথমে একটি ভেরিফিকেশন ই-মেইল পাঠায়। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত তথ্যও চাওয়া হতে পারে। সবশেষে আবেদন অনুমোদিত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে ব্যবহারকারীকে জানানো হয়। তবে গোপনীয়তা ও জনস্বার্থ—উভয় বিষয় বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সিএ/এমআর


