দেশে শিশু নির্যাতনের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট নাগরিক, আইনজীবী, চিকিৎসক ও সমাজকর্মীরা। তারা বলেছেন, কেবল আইন থাকলেই শিশু নির্যাতন বন্ধ করা সম্ভব নয়; এর জন্য দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি।
রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে ‘বাংলাদেশে শিশু নির্যাতন ও করণীয়’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন। বৈঠকের আয়োজন করে ‘নিপীড়িত নারী ও শিশুদের আইনি ও স্বাস্থ্য সহায়তা সেল’।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সম্প্রতি নৃশংসভাবে হত্যার শিকার শিশু রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা তার মেয়ের নির্মম হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দেন। তার বক্তব্যের সময় পুরো সভাস্থলে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়।
গোলটেবিল বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন নিপীড়িত নারী ও শিশুদের আইনি ও স্বাস্থ্য সহায়তা সেলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী এবং বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্টজনরা অংশ নেন। তারা দেশের শিশু নির্যাতনের বর্তমান পরিস্থিতি, এর কারণ এবং প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বক্তারা বলেন, বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে অপরাধীরা শাস্তি এড়িয়ে যাচ্ছে, যা বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি করছে।
তারা আরও বলেন, দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে আইনগত ও প্রশাসনিক উদ্যোগ জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
বক্তারা উল্লেখ করেন, শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে শুধু সরকার নয়, সমাজের প্রতিটি স্তরের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। এই বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো না গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হবে।
গোলটেবিল বৈঠকের শেষে আলোচনায় উঠে আসা মতামত ও প্রস্তাবনাগুলো লিখিত সুপারিশ আকারে উপস্থাপন করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা এসব সুপারিশ দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
সিএ/এমই


