রাজধানীর পল্লবীতে আলোচিত শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় ঘোষণার জন্য রোববার দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত। বহুল আলোচিত এ মামলার বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন হওয়ার পর এখন রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে দেশবাসী।
ঢাকা মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন গত বৃহস্পতিবার উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে রায়ের জন্য ৭ জুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, দেশের ইতিহাসে ধর্ষণ ও হত্যা-সংক্রান্ত মামলাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম দ্রুত নিষ্পত্তির উদাহরণ। মাত্র চার কার্যদিবসের মধ্যে বিচারকাজ শেষ হয়েছে এবং মামলায় মোট ১৬ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন।
রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করে দাবি করেছে, প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের আবেদন জানিয়েছে।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী সোহেল রানার জন্য মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আবেদন করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে পল্লবী এলাকায় প্রতিবেশী সোহেল রানার বাসা থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আট বছর বয়সী রামিসা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, সোহেল রানা শিশুটিকে কৌশলে নিজের কক্ষে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করে। ঘটনার পরদিন রামিসার বাবা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, ঘটনার সাত ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তদন্ত শেষে ছয় দিনের মাথায় আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ।
গত ২ জুন মামলায় ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য, প্রত্যক্ষদর্শী, চিকিৎসক, পুলিশ কর্মকর্তা এবং তদন্ত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিসহ ১৬ জন সাক্ষ্য দেন। এর আগে ১ জুন মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়।
এ মামলার রায়কে ঘিরে জনমনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। আদালতের সিদ্ধান্তের দিকে নজর রাখছেন সংশ্লিষ্ট সবাই।
সিএ/এমআর


