মদিনার ইতিহাসে এক সময় দেখা যায় পণ্যে বোঝাই শত শত উটের কাফেলা শহরে প্রবেশ করছে। মানুষের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা সেই কাফেলার মালিক ছিলেন আব্দুর রহমান ইবনে আউফ, যিনি একসময় সম্পূর্ণ শূন্য হাতে মদিনায় আগমন করেছিলেন।
হিজরতের পর রাসুল (সা.) মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করেন। সে সময় আনসার সাহাবি সাদ ইবনে রবি তাঁর সম্পদের অর্ধেক দেওয়ার প্রস্তাব দেন। কিন্তু আব্দুর রহমান বলেন, ‘আল্লাহ তোমার সম্পদে বরকত দিন। আমার কিছু লাগবে না ভাই। তুমি শুধু আমাকে বাজারের পথটা দেখিয়ে দাও’। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৭৮০)
এরপর তিনি নিজ উদ্যোগে ব্যবসা শুরু করেন। অল্প পুঁজিতে শুরু করলেও সততা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে ধীরে ধীরে ব্যবসা বিস্তৃত করেন। তাঁর বাণিজ্যিক দক্ষতার পাশাপাশি সততা ছিল সবচেয়ে বড় শক্তি।
সময়ের সঙ্গে তাঁর সম্পদ বৃদ্ধি পেলেও তিনি দানশীলতায় ছিলেন অনন্য। বহুবার বিপুল পরিমাণ সম্পদ আল্লাহর পথে দান করেছেন, যা মদিনাবাসীর কাছে বিস্ময় সৃষ্টি করেছিল।
একসময় তাঁর সামনে বিলাসবহুল খাবার পরিবেশন করা হলে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি স্মরণ করেন, মুসআব ইবনে ওমায়ের শহীদ হওয়ার সময় তাঁর কাফনের কাপড়ও ছিল না। (উসদুল গাবা, ৩/৩১৩)
আব্দুর রহমান ইবনে আউফ ছিলেন জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত সাহাবিদের একজন। দুনিয়ায় বিপুল সম্পদের মালিক হয়েও তিনি আখিরাতের প্রতি গভীর মনোযোগী ছিলেন।
জীবনের শেষ সময়েও তিনি দান অব্যাহত রাখেন এবং অসিয়তের মাধ্যমে বিপুল সম্পদ আল্লাহর পথে ব্যয় করার নির্দেশ দেন। তাঁর জীবন থেকে শিক্ষা পাওয়া যায়, হালাল উপায়ে উপার্জন ও দানশীলতার মাধ্যমে প্রকৃত সফলতা অর্জন সম্ভব।
সূত্র: সিয়ারু আলামিন নুবালা; আল-ইসাবা; উসদুল গাবা; মুসনাদে আহমাদ
সিএ/এমআর


