ফুটবল বিশ্বকাপ কিংবা বড় কোনো ক্রীড়া আসরের দর্শকসারিতে প্রায়ই দেখা যায়, অভিভাবকদের কোলে থাকা ছোট শিশুদের কানে বিশেষ ধরনের হেডফোন পরানো রয়েছে। অনেকের কাছে এগুলো সাধারণ হেডফোন মনে হলেও বাস্তবে এগুলো শিশুদের সুরক্ষার জন্য ব্যবহৃত বিশেষ সামগ্রী, যা উচ্চমাত্রার শব্দের প্রভাব থেকে তাদের রক্ষা করতে সাহায্য করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাঠে শিশুদের কানে যেসব হেডফোন দেখা যায়, সেগুলো মূলত ‘নয়েজ রিডাকশন ইয়ারমাফস’ বা ‘হিয়ারিং প্রোটেকশন ইয়ারমাফস’। এগুলো সাধারণ নয়েজ ক্যানসেলিং হেডফোনের মতো নয়। বরং এগুলোর প্রধান কাজ হলো আশপাশের তীব্র শব্দের মাত্রা কমিয়ে শিশুর কানে পৌঁছাতে দেওয়া।
বিশ্বকাপ, ক্রিকেট ম্যাচ, কনসার্ট বা অন্য যেকোনো বড় জনসমাগমে প্রচুর শব্দ সৃষ্টি হয়। দর্শকদের উল্লাস, চিৎকার, বাঁশি, ঘোষণার শব্দ কিংবা গোল উদ্যাপনের মুহূর্তে শব্দের মাত্রা অনেক বেড়ে যায়। এসব শব্দ বড়দের জন্যও অস্বস্তিকর হতে পারে, আর শিশুদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব আরও বেশি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের শ্রবণযন্ত্র তুলনামূলক বেশি সংবেদনশীল। বিশেষ করে তিন বছর বা তার কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে উচ্চমাত্রার শব্দ শ্রবণশক্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘ সময় এমন পরিবেশে থাকলে কানে অস্বস্তি, ভয় কিংবা সাময়িক শ্রবণ সমস্যাও দেখা দিতে পারে। এ কারণেই ইয়ারমাফস ব্যবহারকে কার্যকর সুরক্ষা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
শুধু শ্রবণশক্তি রক্ষাই নয়, শিশুকে মানসিকভাবে স্বস্তিতে রাখতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। হঠাৎ বিকট শব্দে অনেক শিশু ভয় পেয়ে কান্না শুরু করতে পারে বা অস্থির হয়ে উঠতে পারে। বড়দের আনন্দঘন পরিবেশও শিশুর কাছে ভীতিকর মনে হতে পারে। ইয়ারমাফস শব্দের তীব্রতা কমিয়ে শিশুকে শান্ত রাখতে সহায়তা করে।
ঘুমের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। নবজাতক ও অল্পবয়সী শিশুদের দিনের বড় একটি অংশ ঘুমের মধ্যেই কাটে। খেলার সময় যদি শিশুর ঘুমের সময়ের সঙ্গে মিলে যায়, তাহলে উচ্চমাত্রার শব্দ তার স্বাভাবিক ঘুমে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। ঘুম ভেঙে গেলে শিশু বিরক্ত, অস্থির কিংবা কান্নাকাটি করতে পারে। ইয়ারমাফস ব্যবহার করলে এসব সমস্যা অনেকাংশে কমানো সম্ভব হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু স্টেডিয়াম নয়, কনসার্ট, উৎসব কিংবা শব্দদূষণ বেশি এমন পরিবেশেও শিশুদের জন্য এ ধরনের সুরক্ষাসামগ্রী ব্যবহার করা যেতে পারে। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে যানবাহনের হর্ন, নির্মাণকাজ বা অন্যান্য উৎস থেকে সৃষ্ট শব্দ অনেক সময় শিশুদের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে।
তবে ইয়ারমাফস ব্যবহারের ক্ষেত্রে মানসম্মত পণ্য বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি এটি যেন শিশুর জন্য আরামদায়ক হয়, সে বিষয়েও খেয়াল রাখতে হবে। অতিরিক্ত গরম আবহাওয়ায় দীর্ঘ সময় ব্যবহার করলে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে, তাই প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করাই উত্তম।
সিএ/এমআর


