একটি সম্পর্কের সমাপ্তি মানুষের জীবনে গভীর মানসিক প্রভাব ফেলতে পারে। সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর অনেকেই ভাবেন, কবে তারা সম্পূর্ণভাবে প্রাক্তনের স্মৃতি থেকে মুক্ত হতে পারবেন। মনোবিজ্ঞান ও স্নায়ুবিজ্ঞানের গবেষণা বলছে, এই প্রক্রিয়া দীর্ঘ এবং জটিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভালোবাসা শুধু আবেগের বিষয় নয়; এটি মানুষের মস্তিষ্কের বিভিন্ন রাসায়নিক প্রক্রিয়ার সঙ্গেও ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। ফলে সম্পর্কের বিচ্ছেদ মানসিক কষ্টের পাশাপাশি জৈবিক পরিবর্তনেরও কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
খ্যাতনামা নৃতত্ত্ববিদ হেলেন ফিশারের নেতৃত্বে ২০০৫ সালে পরিচালিত একটি এফএমআরআই গবেষণায় দেখা যায়, প্রেম মানুষের মস্তিষ্কের রিওয়ার্ড সিস্টেমকে সক্রিয় করে। প্রেমের সম্পর্কে থাকাকালে ডোপামিন, অক্সিটোসিন এবং নরএপিনেফ্রিনের মতো বিভিন্ন হরমোন ও নিউরোট্রান্সমিটার নিঃসৃত হয়, যা আনন্দ, প্রেরণা এবং আবেগগত সংযুক্তি তৈরি করে।
এই রাসায়নিক পরিবর্তনের কারণে সম্পর্ক ভেঙে গেলে মানুষের মস্তিষ্কে এক ধরনের শূন্যতা ও মানসিক অস্বস্তি তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি অনেকটা আসক্তি থেকে বেরিয়ে আসার অভিজ্ঞতার মতো।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, কোনো ব্যক্তি দীর্ঘদিনের অভ্যাস হঠাৎ ত্যাগ করলে যেমন মানসিক ও শারীরিক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়, বিচ্ছেদের পরও অনেক মানুষের ক্ষেত্রে একই ধরনের আবেগগত প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে।
তাহলে একজন মানুষ ঠিক কত দিনে প্রাক্তনের স্মৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন?
সোশ্যাল সাইকোলজিক্যাল অ্যান্ড পার্সোনালিটি সায়েন্সে প্রকাশিত একটি সমীক্ষা বলছে, প্রাক্তনের প্রতি আবেগগত সংযুক্তির প্রায় অর্ধেক কমতে গড়ে চার বছর সময় লাগে। আর সম্পর্কের স্মৃতি ও আবেগের প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে ম্লান হতে প্রায় আট বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
গবেষকদের মতে, সম্পর্কের গভীরতা, স্থায়িত্ব এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ওপর এই সময়সীমা ভিন্ন হতে পারে। যেসব সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং আবেগগতভাবে বেশি ঘনিষ্ঠ ছিল, সেগুলোর ক্ষেত্রে পুনরুদ্ধারের সময়ও তুলনামূলক বেশি হয়।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের আবেগ পরিবর্তিত হয় এবং অতীতের প্রতি আকর্ষণ ধীরে ধীরে কমে আসে। ফলে বিচ্ছেদের পর মানসিক কষ্ট দীর্ঘস্থায়ী হলেও অধিকাংশ মানুষ শেষ পর্যন্ত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে সক্ষম হন।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, বিচ্ছেদের পর নিজেকে সময় দেওয়া, নতুন অভ্যাস গড়ে তোলা, সামাজিক যোগাযোগ বজায় রাখা এবং মানসিক সুস্থতার প্রতি মনোযোগ দেওয়া পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়াকে সহজ করতে পারে।
সিএ/এমআর


