আয় ও ব্যয়ের সঠিক ভারসাম্য না থাকায় মাসের শেষ দিকে অর্থসংকটে পড়েন অনেক মানুষ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খরচের পর যা অবশিষ্ট থাকে তা সঞ্চয় করার বদলে, আগে সঞ্চয় নিশ্চিত করে পরে ব্যয় করার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলেই আর্থিক চাপ অনেকটাই কমানো সম্ভব।
এই ধারণাকে কেন্দ্র করেই বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে জাপানের শতবর্ষী অর্থ ব্যবস্থাপনা কৌশল ‘কাকেবু’। ব্যক্তিগত ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত সঞ্চয়ের জন্য এটি এখন অনেকের কাছে কার্যকর সমাধান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
‘কাকেবু’ শব্দের অর্থ হিসাবের খাতা। প্রায় ১২০ বছর আগে জাপানের এক নারী সাংবাদিক এ পদ্ধতির সূচনা করেন। মূলত এটি একটি ব্যক্তিগত আর্থিক পরিকল্পনা পদ্ধতি, যেখানে মানুষকে সচেতনভাবে খরচের হিসাব রাখতে উৎসাহ দেওয়া হয়।
এই কৌশলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, মাসের শুরুতেই নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ সঞ্চয়ের জন্য আলাদা করে রাখা। এরপর বাকি অর্থ দিয়ে মাসিক ব্যয়ের পরিকল্পনা সাজানো হয়। এতে অপ্রয়োজনীয় খরচ কমে এবং সঞ্চয়ের অভ্যাস তৈরি হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল অ্যাপ ব্যবহার করার চেয়ে হাতে লিখে হিসাব রাখলে মানুষ নিজের ব্যয়ের বিষয়ে বেশি সচেতন হয়। প্রতিদিন বা প্রতি সপ্তাহে ব্যয়ের খাতা পর্যালোচনা করলে সহজেই বোঝা যায় কোথায় অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে।
কাকেবু পদ্ধতিতে খরচকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। প্রথমে প্রয়োজনীয় খরচ যেমন বাড়িভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, বাজার বা চিকিৎসা খরচের হিসাব রাখতে হয়। এরপর ব্যক্তিগত শখ বা বিনোদনের জন্য একটি নির্দিষ্ট অংশ বরাদ্দ রাখা হয়।
এ ছাড়া জরুরি পরিস্থিতির জন্য আলাদা ‘আপৎকালীন তহবিল’ গঠনের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতি মাসে সামান্য পরিমাণ অর্থ জমিয়ে রাখা হলে আকস্মিক সমস্যার সময় তা সহায়ক হতে পারে।
অর্থ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত হিসাব রাখা এবং পরিকল্পিত ব্যয়ের অভ্যাস একজন মানুষকে আর্থিকভাবে আরও স্থিতিশীল করে তুলতে পারে। এতে মাসের শেষ দিকেও অর্থসংকটের চাপ কমে আসে এবং দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়ের লক্ষ্য অর্জন সহজ হয়।
সিএ/এমআর


