অনেক অভিভাবক অভিযোগ করেন, তাদের সন্তান ঠিকমতো খাবার খেতে চায় না বা নতুন খাবার দেখলে ভয় পায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আচরণ সব সময় খুঁতখুঁতে স্বভাবের কারণে হয় না; বরং এটি অ্যাভয়ডেন্ট রেসট্রিকটিভ ফুড ইনটেক ডিজঅর্ডার বা এআরএফআইডি নামের একটি জটিল মানসিক স্বাস্থ্যসমস্যার লক্ষণ হতে পারে। এ অবস্থায় শিশু বা কিশোররা খাবারের প্রতি তীব্র অনীহা বা ভয় অনুভব করে, যা খাদ্যাভ্যাসজনিত একটি ব্যাধি হিসেবে বিবেচিত।
গবেষণায় দেখা গেছে, এই সমস্যার পেছনে কয়েকটি কারণ কাজ করে। এর মধ্যে রয়েছে খাবারের রং, গন্ধ, স্বাদ বা টেক্সচারের প্রতি অতিসংবেদনশীলতা, অতীতে খাওয়ার সময় খারাপ অভিজ্ঞতা থেকে তৈরি ভয় এবং খাবারের প্রতি আগ্রহের অভাব। অনেক ক্ষেত্রে শিশুরা খুব দ্রুত পেট ভরে যাওয়ার অনুভূতি পায়, যা তাদের খাবার থেকে দূরে সরিয়ে রাখে।
এ ধরনের সমস্যায় আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ দেখা যায়। নতুন খাবার দেখলে বিরক্তি, ভয় বা কান্না, বয়স অনুযায়ী ওজন ও উচ্চতা না বাড়া, পুষ্টিহীনতা এবং সামাজিক পরিবেশে খাওয়ার সময় অস্বস্তি এসব লক্ষণের মধ্যে উল্লেখযোগ্য।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআরএফআইডি মোকাবিলায় জোর করে খাবার খাওয়ানো কোনো সমাধান নয়। বরং ফ্যামিলি বেজড থেরাপির মাধ্যমে পরিবারকে সচেতন করা, অকুপেশনাল থেরাপির মাধ্যমে খাবারের টেক্সচারের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং পুষ্টি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ঘাটতি পূরণ করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।
অভিভাবকদের জন্য পরামর্শ হিসেবে বলা হচ্ছে, ধৈর্য ধরতে হবে এবং শিশুকে চাপ দেওয়া যাবে না। নতুন খাবারের সঙ্গে পরিচয় করাতে ধীরে ধীরে উৎসাহ দেওয়া, নির্দিষ্ট সময় মেনে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং অল্প অগ্রগতিতেও প্রশংসা করা জরুরি। অনেক সময় শিশুর এই আচরণের পেছনে মানসিক চাপ বা ভয় কাজ করে, তাই সহানুভূতিশীল হওয়াই হতে পারে সমাধানের প্রথম ধাপ।
সিএ/এমআর


