বর্তমান বিশ্বে ব্যবসা ও অর্থনীতির জটিলতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দক্ষ ব্যবস্থাপনা পেশাজীবীর চাহিদাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে এমবিএ ডিগ্রি অর্জনকারীদের গুরুত্ব দিন দিন আরও বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এমবিএ বা মাস্টার অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন মূলত শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি সুসংগঠিত ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তোলে। এর মাধ্যমে তারা মানবসম্পদ, প্রযুক্তি এবং ব্যবসায়িক কৌশল দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনার জ্ঞান অর্জন করে।
বিশ্বায়ন ও প্রযুক্তিনির্ভর যুগে প্রতিনিয়ত নতুন উদ্ভাবনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই পরিস্থিতিতে কৌশলগত চিন্তাভাবনা ও নেতৃত্বদানের সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, যা এমবিএ শিক্ষার মূল ভিত্তি।
অনেকে মনে করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অটোমেশনের যুগে এমবিএর গুরুত্ব কমে যাচ্ছে। তবে বাস্তবতা হলো, প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষ ব্যবস্থাপনা ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান টেকসইভাবে এগোতে পারে না। এমবিএ শিক্ষার্থীরা শিখে কীভাবে প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে নতুন সুযোগ তৈরি করতে হয়।
বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে দ্রুত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তৈরি পোশাকশিল্প, ওষুধশিল্প, স্টার্টআপ এবং বড় অবকাঠামো প্রকল্প পরিচালনায় দক্ষ ব্যবস্থাপকদের প্রয়োজন বাড়ছে। এ কারণে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মানের পেশাজীবীদের চাহিদা বাড়ছে।
এমবিএ শিক্ষার্থীদের মধ্যে যোগাযোগ দক্ষতা, দ্বন্দ্ব নিরসন, আবেগ নিয়ন্ত্রণ এবং অভিযোজন ক্ষমতার মতো গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা গড়ে তোলা হয়। এসব দক্ষতা করপোরেট পরিবেশে কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এ ছাড়া নিয়োগদাতারা এমন কর্মী চান, যারা বিভিন্ন বিভাগে কাজ করতে সক্ষম এবং চাপের মধ্যেও কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এমবিএ গ্র্যাজুয়েটদের বহুমুখী দক্ষতা এ ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা দেয়।
নেটওয়ার্কিংও এমবিএ শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সাবেক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার গঠনে সহায়ক হয়।
সব মিলিয়ে বলা যায়, কেবল চাকরি নয়, উদ্যোক্তা হওয়ার ক্ষেত্রেও এমবিএ একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করে। তাই দক্ষ ও পেশাদার এমবিএ গ্র্যাজুয়েটদের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে।
সূত্র: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইবিএ
সিএ/এমআর


