প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে সামান্য পরিবর্তনও শরীরের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের সহজ উপায় খুঁজতে গিয়ে অনেকেই এমন কিছু অভ্যাস গ্রহণ করেন, যা নিয়মিত অনুসরণ করলে শরীরের ভেতর থেকে শক্তি ও পুষ্টি জোগায়। তেমনই একটি সহজ অভ্যাস হলো খালি পেটে ভেজানো কিশমিশ খাওয়া।
পুষ্টিবিদদের মতে, নিয়মিত ভেজানো কিশমিশ খেলে শরীরে শক্তি বাড়ে, হজম প্রক্রিয়া উন্নত হয় এবং বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা কমাতে সহায়তা করে। তাদের দাবি, কেউ যদি টানা এক মাস প্রতিদিন খালি পেটে ৮ থেকে ১০টি ভেজানো কিশমিশ খান, তাহলে শরীরে একাধিক ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যেতে পারে।
ভেজানো কিশমিশ শুকনো কিশমিশের তুলনায় বেশি উপকারী বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। শুকনো কিশমিশে প্রাকৃতিক চিনি ও ফাইবারের ঘনত্ব বেশি থাকায় অনেক সময় হজমে সমস্যা হতে পারে। কিন্তু পানিতে ভিজিয়ে রাখলে কিশমিশ নরম হয়ে যায় এবং এর ভেতরের পুষ্টি উপাদান সহজে শরীরে শোষিত হয়। এতে হজমের চাপ কমে এবং পুষ্টির কার্যকারিতা বাড়ে।
নিয়মিত ভেজানো কিশমিশ খেলে হজম ক্ষমতা উন্নত হতে পারে। এতে থাকা ফাইবার শরীরের প্রাকৃতিক রেচক হিসেবে কাজ করে। সকালে খালি পেটে এটি খেলে অন্ত্রের গতি স্বাভাবিক থাকে, কোষ্ঠকাঠিন্য কমে এবং পেট হালকা অনুভূত হয়।
কিশমিশে প্রচুর পটাশিয়াম রয়েছে, যা রক্তনালীকে শিথিল করতে সহায়তা করে এবং শরীরে সোডিয়ামের প্রভাব কমাতে ভূমিকা রাখে। ফলে নিয়মিত খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক হতে পারে এবং হৃদ্রোগের ঝুঁকিও কমতে পারে।
এতে থাকা আয়রন ও বি-কমপ্লেক্স ভিটামিন রক্তে লোহিত কণিকার সংখ্যা বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা উন্নত হয় এবং রক্তস্বল্পতা কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। এতে শরীরের দুর্বলতা কমে এবং শক্তি ফিরে আসে।
ভেজানো কিশমিশে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি থাকায় এটি শরীরকে ফ্রি র্যাডিকেলের ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। এর ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়তে পারে এবং সর্দি-কাশির মতো সাধারণ সংক্রমণের ঝুঁকি কমতে পারে।
এ ছাড়া কিশমিশ রক্ত পরিশোধনে সহায়ক বলে মনে করা হয়। নিয়মিত খেলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়তে পারে, লিভার সুস্থ রাখতে সহায়তা করতে পারে এবং ত্বকে প্রাকৃতিক জেল্লা ফিরে আসতে পারে।
সকালে ভেজানো কিশমিশ খেলে শরীরে প্রাকৃতিক শক্তিও যোগায়। এতে থাকা পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম শরীরের অ্যাসিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। ফলে ক্লান্তি কমে এবং মানসিক সতেজতা বৃদ্ধি পায়।
ভেজানোর পদ্ধতি হিসেবে রাতে ঘুমানোর আগে ৮ থেকে ১০টি কিশমিশ একটি পরিষ্কার গ্লাসে পানিতে ভিজিয়ে রাখা যায়। সকালে খালি পেটে কিশমিশগুলো চিবিয়ে খাওয়ার পাশাপাশি সেই ভেজানো পানিও পান করা যেতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ডায়াবেটিস বা ইনসুলিন-সংবেদনশীল ব্যক্তিদের নিয়মিত ভেজানো কিশমিশ খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সিএ/এমআর


