ইসলাম একটি সর্বজনীন ও চিরস্থায়ী আদর্শ, যা দেশ ও সময়ের সীমা অতিক্রম করে মানবজীবনের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ দিকনির্দেশনা প্রদান করে। এই আদর্শের ভিত্তি আল্লাহর একত্ববাদ এবং তাঁর নির্দেশের প্রতি আত্মসমর্পণের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় সব নবী ও রাসুল একই মূল বার্তা প্রচার করেছেন। প্রথম মানব হজরত আদম (আ.) থেকে শুরু করে হজরত নুহ, মুসা, দাউদ, ইসা আলাইহিমুস সালাম এবং সর্বশেষ নবী মুহাম্মদ (সা.)—সকলেই এই একত্ববাদভিত্তিক আদর্শের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
যদিও মৌলিক আদর্শ অপরিবর্তিত ছিল, তবে বিভিন্ন সময়ে অবতীর্ণ শরিয়ত বা জীবনব্যবস্থা সমাজ ও প্রয়োজন অনুযায়ী ভিন্ন ছিল। নুহ (আ.) তাঁর জাতিকে সংকট থেকে মুক্তির পথ দেখিয়েছেন, মুসা (আ.)-কে দেওয়া হয়েছিল বিস্তৃত বিধান, দাউদ (আ.) ন্যায়বিচারের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ইসা (আ.) ভালোবাসা ও আধ্যাত্মিকতার বার্তা প্রচার করেছেন।
মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর সর্বশেষ ওহি নাজিলের মাধ্যমে ইসলাম পূর্ণতা লাভ করে। পবিত্র কোরআন মানবজীবনের জন্য একটি চিরন্তন পথনির্দেশক, আর সুন্নাহ সেই নির্দেশনার বাস্তব প্রয়োগের উদাহরণ।
ইসলামের কর্মপদ্ধতি ইজতিহাদের মাধ্যমে সময়ের সঙ্গে বিকশিত হয়। এর ফলে পরিবর্তনশীল বাস্তবতায় ইসলামি নীতিমালার ব্যাখ্যা ও প্রয়োগ সম্ভব হয়। কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে ন্যায়বিচার, সাম্য ও মানবিকতার মতো মূলনীতি প্রতিষ্ঠা পায়।
ইসলামি আইন বা শরিয়তের উদ্দেশ্য হলো মানুষের দীন, জীবন, বুদ্ধি, বংশধারা ও সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। এই লক্ষ্য অর্জনে কিয়াস, ইজমা, ইস্তিহসান ও মাসলাহার মতো পদ্ধতি ব্যবহার করে সমসাময়িক সমস্যার সমাধান নির্ধারণ করা হয়।
এই কারণেই ইসলাম একটি জীবন্ত ও গতিশীল আদর্শ হিসেবে বর্তমান বিশ্বেও প্রাসঙ্গিক। এটি মূল বিশ্বাসের ভিত্তিতে যুক্তি, ব্যাখ্যা ও প্রয়োগের মাধ্যমে মানবজীবনের জন্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
সিএ/এমআর


