মানবজীবনে সম্পদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর সঠিক ব্যবহার না হলে ব্যক্তি ও সমাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। পবিত্র কোরআনে সম্পদের উপার্জন ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে ব্যয়ের ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত অপচয় বা কৃপণতা—দুটোকেই নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে খাদ্য ও পানীয়র অপচয়কে আল্লাহর অপছন্দনীয় কাজ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আল্লাহর পথে সম্পদ ব্যয় করার গুরুত্বও কোরআনে তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সৎ পথে ব্যয় করা সম্পদ বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে সম্পদ জমা করে রেখে তা মানুষের কল্যাণে ব্যবহার না করলে কঠোর শাস্তির কথা উল্লেখ রয়েছে।
সম্পদের ব্যবহারে আত্মীয়স্বজন, দরিদ্র ও পথিকদের অধিকারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। পাশাপাশি উপার্জনের ক্ষেত্রেও হালাল ও পবিত্র পথ অনুসরণের নির্দেশ রয়েছে।
কোরআন মানুষকে সতর্ক করেছে, যেন তারা কৃপণতা বা অপব্যয়ের কোনো এক চরম অবস্থায় না যায়। বরং ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপনই উত্তম। এছাড়া দানের ক্ষেত্রে নিঃস্বার্থ উদ্দেশ্য ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
কোরআনের শিক্ষায় বলা হয়েছে, মানুষ সম্পদের প্রকৃত মালিক নয়; বরং এটি একটি আমানত। তাই মৃত্যুর আগে মানবকল্যাণে সম্পদ ব্যয় করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
সিএ/এমআর


