বর্তমানে তাপমাত্রা মাপার জন্য থার্মোমিটার একটি অপরিহার্য যন্ত্র হলেও একসময় গরম বা ঠান্ডা ছিল কেবল মানুষের অনুভূতির বিষয়। সপ্তদশ শতাব্দীর আগে তাপমাত্রা পরিমাপের কোনো নির্দিষ্ট যন্ত্র ছিল না। এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটে বিজ্ঞানী গ্যালিলিও গ্যালিলির হাত ধরে, যিনি তাপমাত্রা পরিমাপের প্রাথমিক ধারণা বাস্তব রূপ দেন।
ষোড়শ শতাব্দীর শেষ ভাগে গ্যালিলিও গ্যালিলি থার্মোস্কোপ নামে একটি যন্ত্র তৈরি করেন। এতে কাচের নলের মাথায় একটি বাল্ব থাকত এবং নিচের অংশ পানিতে ডোবানো থাকত। তাপমাত্রা পরিবর্তনের ফলে বাল্বের ভেতরের বাতাস প্রসারিত বা সংকুচিত হয়ে পানির স্তর ওঠানামা করত। তবে এতে কোনো নির্দিষ্ট স্কেল না থাকায় এটি শুধু পরিবর্তন বোঝাতে পারত।
পরবর্তীতে ১৬১২ সালের দিকে সান্তোরিও সান্তোরিও প্রথমবারের মতো এই যন্ত্রে স্কেল যুক্ত করেন এবং চিকিৎসাক্ষেত্রে এর ব্যবহার শুরু করেন। তিনি তাপমাত্রার সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণের চেষ্টা করেন, যা পরবর্তীতে থার্মোমিটারের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
১৬৫০–এর দশকে ফার্দিনান্দো দ্বিতীয় ডি’মেডিচি থার্মোমিটারকে বায়ুচাপের প্রভাব থেকে মুক্ত করে সিল করা যন্ত্র তৈরি করেন। এতে পানির বদলে পাতিত ওয়াইন ব্যবহার করা হয়, যা আরও নির্ভুল পরিমাপ নিশ্চিত করে। এই যন্ত্রগুলো ফ্লোরেন্টাইন থার্মোমিটার নামে পরিচিতি পায়।
পরবর্তী সময়ে তাপমাত্রা নির্ধারণে একক মানদণ্ডের অভাব দূর করতে ওলাস রেমার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি জলের হিমাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ককে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহারের ধারণা দেন, যা পরবর্তীতে আধুনিক স্কেলের ভিত্তি গড়ে দেয়।
ড্যানিয়েল গ্যাব্রিয়েল ফারেনহাইট এই ধারণাকে আরও উন্নত করে পারদভিত্তিক থার্মোমিটার তৈরি করেন। তিনি নির্দিষ্ট স্কেল নির্ধারণ করেন, যেখানে পানির হিমাঙ্ক ৩২ ডিগ্রি ধরা হয়। তাঁর উদ্ভাবন থার্মোমিটারকে আরও নির্ভুল ও কার্যকর করে তোলে।
এরপর ১৭৪২ সালে আন্দ্রেস সেলসিয়াস একটি নতুন স্কেল প্রবর্তন করেন, যা পরে সংশোধিত হয়ে বর্তমানের প্রচলিত রূপ পায়। এই স্কেলে পানির হিমাঙ্ক ০ ডিগ্রি এবং স্ফুটনাঙ্ক ১০০ ডিগ্রি নির্ধারণ করা হয়।
এই দীর্ঘ বিবর্তনের মধ্য দিয়ে আধুনিক থার্মোমিটার তৈরি হয়েছে, যা আজ চিকিৎসা, আবহাওয়া এবং দৈনন্দিন জীবনে অপরিহার্য একটি যন্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
সূত্র: টাইম
সিএ/এমআর


