পাবনার চাটমোহর উপজেলায় ক্যান্সারে আক্রান্ত এক সন্তানের জীবন বাঁচাতে অসহায় মায়ের হৃদয়বিদারক আকুতি দেখা দিয়েছে। টাকার অভাবে চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন মামুনুর রশীদ (প্রায় ৪০)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মামুনুর রশীদ কয়েক মাস আগেও দিনমজুরি করে সংসার চালাতেন। তার আয়েই চলত পরিবারের জীবিকা। তবে ১৪ মাস আগে তার গলায় টিউমার ধরা পড়ে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই টিউমার ক্যান্সারে রূপ নেয়। এতে তিনি ধীরে ধীরে কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন।
পাবনার চাটমোহর উপজেলার পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়নের মল্লিকপুর গ্রামের আব্দুল হাকিম ও মরিয়ম খাতুন দম্পতির একমাত্র সন্তান মামুন। অসুস্থতার শুরুতে পরিবারটি কৃষিজমি বিক্রি এবং এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে চিকিৎসা চালিয়ে যায়। তবে তাতেও রোগের উন্নতি হয়নি, বরং পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটে পড়ে যায়।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী মামুনের কেমোথেরাপি ও অপারেশন প্রয়োজন, যার জন্য আনুমানিক ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা প্রয়োজন। কিন্তু এই ব্যয় বহনের সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে পরিবারটি।
বর্তমানে মামুন ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। চিকিৎসকরা অপারেশন ও কেমোথেরাপির পরামর্শ দিলেও অর্থের অভাবে তা সম্ভব হয়নি। ফলে তিনি এখন বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর ঝুঁকিতে রয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, মামুনকে বাড়ির জরাজীর্ণ টিনের ঘরে শুয়ে থাকতে। তার গলার বাঁ পাশে টিউমারটি বড় আকার ধারণ করেছে এবং সেখান থেকে রক্ত ও পুঁজ বের হচ্ছে। অসহ্য যন্ত্রণায় তিনি কাতরাচ্ছেন। পাশে বসে অঝোরে কাঁদছেন তার মা মরিয়ম খাতুন এবং স্ত্রী খাদিজা খাতুন।
মায়ের আকুতি জানিয়ে মরিয়ম খাতুন বলেন, আল্লাহ আমার আর কত পরীক্ষা নেবেন! টাকার অভাবে আমার সন্তানকে চিকিৎসা করাতে পারছি না। চিকিৎসা না করলে আমার ছেলে মারা যাবে। মা-বাবার আগে ছেলের মৃত্যু আমরা কীভাবে সহ্য করব? আমার মামুনকে আপনারা বাঁচান।
এ বিষয়ে চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুসা নাসের চৌধুরী বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। উপজেলা সমাজসেবা অফিসের মাধ্যমে পরিবারটিকে সহায়তার চেষ্টা করা হবে। তবে সরকারি সহায়তা পুরো চিকিৎসা ব্যয় বহনে যথেষ্ট হবে না। এজন্য সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
সহায়তার জন্য পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের নম্বর: ০১৭৮২ ০৫৬৭৩৩
সিএ/এমই


