পিরোজপুরের উপকূলীয় অঞ্চলে বোম্বাই জাতের মরিচ চাষ দিন দিন একটি সম্ভাবনাময় কৃষিপণ্য হিসেবে গড়ে উঠছে। লাভজনক হওয়ায় জেলার কৃষকেরা এই মরিচের আবাদ বাড়াচ্ছেন। গ্রামবাংলার উঠান থেকে শুরু হওয়া এই চাষ এখন দেশের সীমানা পেরিয়ে পৌঁছে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক বাজারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পিরোজপুরের নেছারাবাদ ও নাজিরপুর উপজেলার হাজারো পরিবার বোম্বাই মরিচ চাষের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। স্থানীয়ভাবে ঘৃতকুমারী নামে পরিচিত এই জাতের মরিচ এখন চীন, জাপান ও থাইল্যান্ডের মসলা বাজারেও জায়গা করে নিয়েছে।
একসময় পারিবারিক প্রয়োজনে বাড়ির আঙিনায় সীমিত পরিসরে মরিচ চাষ করা হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা বাণিজ্যিক রূপ নেয়। বর্তমানে নেছারাবাদের আটঘর, কুড়িয়ানা, মাহামুদকাঠি, কামারকাঠি এবং নাজিরপুরের বেলুয়া, মুগারঝোড়, বৈঠাকাটা ও বিলডুমুরিয়া এলাকায় ব্যাপকভাবে এই মরিচের আবাদ হচ্ছে।
কৃষকেরা জানান, এই জাতের মরিচের ফলন ভালো, ঘ্রাণ আকর্ষণীয় এবং ঝাল বেশি হওয়ায় বাজারে এর চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে। মৌসুমে প্রতিটি মরিচ ৩ থেকে ১০ টাকায় বিক্রি হয়। একটি গাছ সাধারণত ৭ থেকে ৮ মাস পর্যন্ত ফলন দেয় এবং প্রতিটি গাছ থেকে ৪০০ থেকে এক হাজারটি মরিচ পাওয়া যায়। ফলে অল্প জমিতেই ভালো আয় সম্ভব হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে।
আটঘর-কুড়িয়ানা গ্রামের কৃষক রঞ্জিত হালদার বলেন, আমাদের এই গ্রামের মরিচ এখন বিদেশে যাচ্ছে। জাপানসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বাড়ি থেকেই মরিচ নিয়ে যান।
কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, গত কয়েক বছরে চাষে আগ্রহ অনেক বেড়েছে। আমাদের গ্রামে প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই এখন এই মরিচ চাষ হচ্ছে। উন্নত বীজ ও সঠিক পরিচর্যা করলে উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব।
একই গ্রামের কৃষক সবিতা রানী বলেন, পরিবারের সবাই মিলে জমিতে কাজ করি। এই মরিচ বিক্রি করে সংসারের খরচ চলে, ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনাও হয়।
স্থানীয় তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালে প্রথমবারের মতো পিরোজপুর অঞ্চল থেকে জাপানে বোম্বাই মরিচ রপ্তানি শুরু হয়। এরপর থেকে রপ্তানি ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। বর্তমানে পিরোজপুর থেকে বছরে প্রায় ৩০০ মেট্রিক টন মরিচ বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে, যা থেকে অর্জিত হচ্ছে কয়েক কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা বাড়তে থাকায় তারা আরও বিনিয়োগে আগ্রহী। তবে উৎপাদন, সংরক্ষণ ও পরিবহন ব্যবস্থা উন্নত করা গেলে রপ্তানি কয়েকগুণ বাড়ানো সম্ভব।
গ্রামের উঠান ও পতিত জমিতে জন্ম নেওয়া এই সাধারণ ফসল এখন পিরোজপুরের কৃষি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
পিরোজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সৌমিত্র সরকার বলেন, এই জাতের মরিচের উৎপাদন আরও বাড়ানো গেলে কৃষকদের সরাসরি বিদেশি বাজারের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং রপ্তানি আয় বাড়বে।
সিএ/এমই


