জাতীয় বাজেটে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য স্পষ্ট অর্থ বরাদ্দ ও সময়সূচি না থাকায় রংপুরের তিস্তাপাড়ের মানুষের মধ্যে নতুন করে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ না হওয়ায় নদীভাঙন, বন্যা ও খরার সঙ্গে লড়াই করা মানুষ এবার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
বুধবার সন্ধ্যায় রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার মহিপুর এলাকায় ‘তিস্তা বাঁচাও, নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদ’-এর উদ্যোগে এক গণসমাবেশ ও মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে নদী তীরবর্তী এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, তিস্তা নদী উত্তরাঞ্চলের লাখো মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। বর্ষা মৌসুমে ভয়াবহ বন্যা ও নদীভাঙন যেমন ক্ষতি ডেকে আনে, তেমনি শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকটে কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
তাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কথা বলা হলেও বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। সাম্প্রতিক বাজেটেও প্রকল্পটির জন্য নির্দিষ্ট অর্থ বরাদ্দ কিংবা বাস্তবায়নের সময়সীমা উল্লেখ না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা বেড়েছে।
সমাবেশে সংগঠনের নেতারা বলেন, উত্তরাঞ্চলের প্রায় দুই কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে জড়িত এই প্রকল্প আর বিলম্ব করা উচিত নয়। তারা দ্রুত অর্থ বরাদ্দ, বাস্তবায়ন পরিকল্পনা এবং সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানান।
তিস্তা বাঁচাও, নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম হক্কানী বলেন, “তিস্তা মহাপরিকল্পনা আর বিলম্ব করার সুযোগ নেই। উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি ও পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে।”
বক্তারা আরও বলেন, ভূ-রাজনৈতিক জটিলতার অজুহাত না দেখিয়ে নিজস্ব অর্থায়নেও প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব। তাদের মতে, দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে তিস্তা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
নদীপাড়ের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, তারা আর প্রতিশ্রুতি নয়, বরং দৃশ্যমান কাজ দেখতে চান। দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বন্যা, নদীভাঙন ও পানিসংকটের মতো দীর্ঘস্থায়ী সমস্যাগুলোর সমাধান পাওয়া যেতে পারে।
সিএ/এমআর


