ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে যাত্রার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। নতুন কর্ড লাইন নির্মাণের মাধ্যমে প্রায় ৮০ কিলোমিটার রেলপথের দূরত্ব কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে রাজধানী থেকে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে পৌঁছাতে সময় লাগতে পারে প্রায় তিন ঘণ্টা।
বর্তমানে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী আন্তনগর ট্রেনগুলো আখাউড়া, ভৈরব ও টঙ্গী হয়ে কমলাপুরে পৌঁছায়। এ পথে মোট দূরত্ব প্রায় ৩২০ কিলোমিটার হওয়ায় দ্রুতগতির ট্রেনেও যাত্রা সম্পন্ন করতে সাড়ে পাঁচ ঘণ্টার মতো সময় লাগে।
রেলওয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে কুমিল্লা-লাকসাম হয়ে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া রুট ব্যবহার করবে যাত্রীবাহী ট্রেন। এর ফলে বর্তমান পথের তুলনায় উল্লেখযোগ্য দূরত্ব কমে যাবে এবং যাত্রাসময়ও হ্রাস পাবে।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের কর্মকর্তারা বলছেন, দূরত্ব কমে গেলে শুধু যাত্রাসময়ই নয়, জ্বালানি ব্যয় ও পরিচালন খরচও কমবে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, জ্বালানি ব্যয় প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে আসতে পারে।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, কর্ড লাইন চালু হলে ভ্রমণ আরও দ্রুত ও সাশ্রয়ী হবে। যাত্রীদের বিমান ভ্রমণের সঙ্গে তুলনীয় সময়ের মধ্যেই গন্তব্যে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
প্রকল্পের আওতায় ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত বিদ্যমান ডুয়েল গেজ রেললাইনকে সম্প্রসারণ করে কুমিল্লা ও লাকসামের সঙ্গে সংযুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী তানভীরুল ইসলাম জানান, সমীক্ষা শেষ হওয়ার পর উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তুত করা হবে। এরপর অর্থায়ন নিশ্চিত হলে নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।
এরই মধ্যে প্রকল্পের প্রাথমিক পর্যায়ের ড্রাফট ফিজিবিলিটি রিপোর্ট অনুমোদিত হয়েছে। পাশাপাশি সাব-সয়েল ইনভেস্টিগেশন, টপোগ্রাফিক জরিপ, পরিবেশগত মূল্যায়ন, পুনর্বাসন পরিকল্পনা এবং হাইড্রোমরফোলজিক্যাল স্টাডির কাজও সম্পন্ন হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালে নির্মাণকাজ শুরু করে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পটি পুরোপুরি চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে রেলপথের বিভিন্ন স্থানে পৃথক ওভারপাস নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে রেলযাত্রা আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। এতে সড়ক ও আকাশপথের ওপর চাপ কমবে এবং দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেলপথে দ্রুত যোগাযোগের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
সিএ/এমআর


