কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট চ্যাটজিপিটির সক্ষমতা আরও বিস্তৃত করতে বড় ধরনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ওপেনএআই। প্রতিষ্ঠানটি এমন একটি সংস্করণ আনতে চায়, যেখানে শুধু প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সফটওয়্যার উন্নয়ন, তথ্য বিশ্লেষণ, বিভিন্ন ডিজিটাল কাজ সম্পন্ন এবং ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ করার সুবিধা থাকবে।
প্রযুক্তিবিষয়ক বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই চ্যাটজিপিটির নতুন সংস্করণ উন্মোচন করা হতে পারে। ওপেনএআইয়ের লক্ষ্য হলো চ্যাটজিপিটিকে একটি ‘সুপার অ্যাপ’-এ রূপান্তর করা, যেখানে ব্যবহারকারীরা একই প্ল্যাটফর্ম থেকে একাধিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
বর্তমানে চ্যাটজিপিটি মূলত কথোপকথন ও তথ্যভিত্তিক সহায়তা প্রদান করে। তবে নতুন সংস্করণে প্রোগ্রামিং, গবেষণা, ডেটা বিশ্লেষণ এবং কর্মক্ষেত্রের বিভিন্ন জটিল কাজে সহায়তার সুযোগ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ওপেনএআইয়ের পণ্য ও প্ল্যাটফর্ম বিভাগের প্রধান থিবো সোটিয়ো জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটির উদ্দেশ্য এমন একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহকারী তৈরি করা, যা প্রতিটি ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী কাজ করতে পারবে। এই সহকারী ব্যক্তিগত জীবন ও পেশাগত দায়িত্ব পালনে সমানভাবে সহযোগিতা করবে।
প্রতিষ্ঠানটি চ্যাটজিপিটিকে একটি কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্মে পরিণত করতে চায়, যেখান থেকে অন্যান্য এআই সেবাও ব্যবহার করা যাবে। এর মধ্যে সফটওয়্যার কোড তৈরির জন্য নির্মিত ‘কোডেক্স’ সেবাও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ব্যবসায়িক গ্রাহকদের কাছে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করা এবং দীর্ঘমেয়াদে আয়ের নতুন উৎস তৈরি করাও ওপেনএআইয়ের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। ভবিষ্যতে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনার কথা বিবেচনা করে লাভজনক ব্যবসায়িক কাঠামো গড়ে তুলতে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করছে।
এর আগে বিভিন্ন সময়েও চ্যাটজিপিটিকে কেন্দ্র করে বৃহৎ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরির পরিকল্পনার কথা আলোচনায় আসে। চলতি বছরের শুরুতে প্রকাশিত কয়েকটি প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়, ওপেনএআই ধীরে ধীরে তাদের বিচ্ছিন্ন প্রকল্পগুলোকে একত্রিত করে একটি সমন্বিত সেবা কাঠামো তৈরি করতে চায়।
এ কারণে ভিডিও তৈরির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্ল্যাটফর্ম ‘সোরা’র মতো কিছু প্রকল্পকে মূল কৌশলের বাইরে রেখে সহায়ক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলেও জানা গেছে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের ধারণা, পরিকল্পনা সফল হলে চ্যাটজিপিটি ভবিষ্যতে শুধু একটি চ্যাটবট হিসেবে নয়, বরং ব্যক্তিগত সহকারী, কর্মক্ষেত্রের সহযোগী এবং বিভিন্ন ডিজিটাল সেবার কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। তবে নতুন সংস্করণের সব সুবিধা, মূল্য কাঠামো এবং উন্মুক্ত হওয়ার সময়সূচি সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি ওপেনএআই।
সিএ/এমআর


