প্রতিদিনের জীবনের অসংখ্য কাজে কাঁধের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চুল আঁচড়ানো, পোশাক পরা, রান্নাবান্না, বাজারের ব্যাগ বহন কিংবা অফিসে দীর্ঘ সময় কম্পিউটারে কাজ—সব ক্ষেত্রেই কাঁধের সক্রিয় ব্যবহার প্রয়োজন হয়। ফলে কাঁধে ব্যথা দেখা দিলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে সব বয়সী মানুষের মধ্যেই কাঁধের ব্যথার সমস্যা বাড়ছে। অনেকেই এটিকে সাময়িক সমস্যা মনে করে অবহেলা করেন। তবে দীর্ঘদিন চিকিৎসাবিহীন অবস্থায় থাকলে এটি জটিল রূপ নিতে পারে এবং হাতের স্বাভাবিক নড়াচড়া সীমিত হয়ে যেতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, কাঁধের ব্যথার অন্যতম সাধারণ কারণ হলো মাংসপেশি ও টেনডনের প্রদাহ। বারবার মাথার ওপর হাত তোলা, ভারী জিনিস বহন, দীর্ঘ সময় একটানা কাজ করা কিংবা বয়সজনিত ক্ষয়ের কারণে এ ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ফ্রোজেন শোল্ডারের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। এ অবস্থায় ধীরে ধীরে কাঁধ শক্ত হয়ে যায় এবং হাত নাড়াতে অসুবিধা হয়। অনেক সময় ঘাড়ের স্নায়ুজনিত সমস্যা বা সারভাইকাল স্পন্ডেইলাইটিস থেকেও কাঁধে ব্যথা ছড়িয়ে পড়তে পারে।
এ ছাড়া দীর্ঘ সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার, ল্যাপটপের সামনে ঝুঁকে বসে কাজ করা বা এক কাঁধে ভারী ব্যাগ বহনের মতো অভ্যাসও ব্যথার কারণ হতে পারে।
কাঁধে ব্যথা বা জ্বালাপোড়া অনুভব করা, হাত ওপরে তুলতে কষ্ট হওয়া, জামা পরা বা চুল আঁচড়াতে অসুবিধা, রাতে ব্যথা বেড়ে যাওয়া, কাঁধ শক্ত হয়ে যাওয়া কিংবা হাত ভারী লাগার মতো লক্ষণ দেখা দিলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, ব্যথা বাড়ায় এমন কাজ কিছুদিন কমিয়ে দেওয়া উচিত। তবে সম্পূর্ণ বিশ্রামে না গিয়ে সীমিতভাবে হাতের স্বাভাবিক নড়াচড়া বজায় রাখা জরুরি। প্রাথমিক পর্যায়ে বরফ সেঁক এবং দীর্ঘদিনের শক্তভাব থাকলে গরম সেঁক কিছুটা আরাম দিতে পারে। পাশাপাশি সঠিক দেহভঙ্গি বজায় রাখা প্রয়োজন।
চিকিৎসকরা বলছেন, কাঁধের ব্যথা নিরাময়ে শুধু ওষুধ যথেষ্ট নয়। ফিজিয়াট্রিস্ট বা ফিজিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে ব্যায়াম, স্ট্রেচিং, দেহভঙ্গি সংশোধন, ফিজিক্যাল থেরাপি এবং প্রয়োজন হলে অন্যান্য আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি গ্রহণ করলে দ্রুত সুস্থ হওয়া সম্ভব।
দৈনন্দিন জীবনে কিছু সতর্কতা অনুসরণ করলেও কাঁধের ব্যথার ঝুঁকি কমানো যায়। যেমন ব্যথার কাঁধের ওপর ভর দিয়ে না শোয়া, দীর্ঘ সময় ঝুঁকে মোবাইল ব্যবহার না করা, এক হাতে ভারী ব্যাগ বহন না করা এবং দীর্ঘক্ষণ একই ভঙ্গিতে না থাকা।
সিএ/এমআর


