মদিনায় অবস্থিত মসজিদে নববির অন্যতম পবিত্র স্থান হলো রওজা মোবারক, যেখানে সমাহিত আছেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) এবং হজরত ওমর ফারুক (রা.)। হজ ও উমরাহ পালন করতে যাওয়া মুসলমানদের অনেকের মনেই একটি প্রশ্ন জাগে—রওজার চারপাশে ধাতব জালি থাকলেও সেখানে কেন কোনো দরজা বা জানালা নেই?
ইতিহাসবিদদের বর্ণনা অনুযায়ী, বর্তমান রওজা মোবারকের স্থানটি একসময় উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.)-এর ব্যক্তিগত কক্ষ ছিল। নবী করিম (সা.)-এর ইন্তেকালের পর সাহাবায়ে কেরাম তাঁর দাফনের স্থান নির্ধারণে আলোচনা করেন। পরে হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) নবীজির হাদিস স্মরণ করিয়ে দেন, ‘কোনো নবীকেই পৃথিবী থেকে ওঠানো হয়নি তাকে সেই স্থানে দাফন করা ছাড়া যেখানে তার মৃত্যু হয়েছে।’
এরপর মহানবী (সা.)-কে তাঁর ইন্তেকালের স্থানেই দাফন করা হয়। পরবর্তী সময়ে হজরত আবু বকর (রা.) এবং হজরত ওমর (রা.)-কেও একই স্থানে সমাহিত করা হয়। তিনটি কবর পরস্পরের খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে।
ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, হজরত আয়েশা (রা.) জীবদ্দশায় ওই কক্ষে বসবাস করতেন। তাঁর ইন্তেকালের পর কক্ষটিতে প্রবেশের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর বিভিন্ন সময়ে মুসলিম শাসকরা রওজার নিরাপত্তা ও পবিত্রতা রক্ষার লক্ষ্যে একাধিক স্থাপত্যগত পরিবর্তন আনেন।
১৭ হিজরিতে হজরত ওমর (রা.) কক্ষের চারপাশে নতুন দেয়াল নির্মাণ করেন। পরবর্তীতে উমাইয়া খলিফা ওমর ইবনুল আবদুল আজিজ (রহ.) ৮৮ থেকে ৯১ হিজরির মধ্যে স্থায়ী পাথরের দেয়াল নির্মাণ করেন। তিনি কক্ষটিকে পঞ্চকোণ আকৃতির করেন এবং কোনো দরজা না রাখার ব্যবস্থা করেন, যাতে স্থানটির বিশেষ মর্যাদা অক্ষুণ্ন থাকে।
ইতিহাসে আরও উল্লেখ রয়েছে, ৫৫৭ হিজরিতে সুলতান নুরুদ্দিন আদিল আশ-শহীদ রওজার চারপাশে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলেন। পরে বিভিন্ন যুগে রওজার বাইরের কাঠামো ও জালি নির্মাণ ও সংস্কার করা হয়, যা বর্তমানে ‘মাকসুরা’ নামে পরিচিত।
রওজার ওপর নির্মিত সবুজ গম্বুজও ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের মধ্য দিয়ে বর্তমান রূপ পেয়েছে। উসমানি আমলে গম্বুজটি সবুজ রঙে রাঙানো হলে এটি ‘সবুজ গম্বুজ’ নামে পরিচিতি লাভ করে।
ইতিহাসবিদদের মতে, রওজা মোবারকে দরজা-জানালা না থাকার পেছনে মূল কারণ ছিল পবিত্র স্থানটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, এর মর্যাদা সংরক্ষণ করা এবং আকিদাগত বিভ্রান্তি থেকে মুসলমানদের দূরে রাখা। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বিভিন্ন মুসলিম শাসক এ লক্ষ্যেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।
সিএ/এমআর


