গাজীপুর জেলা পরিষদের বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম ও ব্যাংক হিসাব থেকে এফডিআর ভাঙার ঘটনায় ফরেনসিক অডিট করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার চৌধুরী ইশরাক আহমেদ সিদ্দিকী। একই সঙ্গে এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলেও তিনি জানান।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে এ বিষয়ে গণমাধ্যমে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়, যেখানে জেলা পরিষদের কোটি টাকার এফডিআর ভাঙার অনিয়মের অভিযোগ উঠে আসে।
সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, ‘জেলা পরিষদের সব আর্থিক লেনদেন এখন ফরেনসিক অডিটের আওতায় আনা হবে। শিগগিরই এই প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।’
তিনি আরও জানান, সোনালী ব্যাংক ও প্রাইম ব্যাংকে নতুন করে ১১৫ কোটি টাকা এফডিআর করা হয়েছে, যাতে অর্থ নিরাপদ থাকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি বিভিন্ন ব্যাংকে থাকা জেলা পরিষদের এফডিআর মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই ভেঙে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়, যা নিয়ে প্রশাসনিক মহলে প্রশ্ন ওঠে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমোদন ছাড়াই ১৪টি ব্যাংকে চিঠি পাঠিয়ে বিপুল অঙ্কের এফডিআর ভাঙার চেষ্টা করা হয়। এতে সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কাও তৈরি হয়।
স্থানীয় সরকার বিভাগের ২০১২ সালের নির্দেশনা অনুযায়ী, জেলা পরিষদের এফডিআর ভাঙতে হলে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন বাধ্যতামূলক। এ নির্দেশনা উপেক্ষা করে কোনো আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করার বিধান রয়েছে।
এ বিষয়ে প্রশাসক বলেন, ‘বিগত সময়ে জেলা পরিষদ কার্যত দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছিল। এখন সব আর্থিক কার্যক্রম স্বচ্ছতার আওতায় আনা হবে।’
তিনি জানান, মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হবে।
এ ঘটনায় প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার ও আর্থিক অনিয়ম নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিএ/এমই


