মানুষের জীবনে হতাশা, নেতিবাচকতা ও মানসিক সংকীর্ণতা যখন প্রভাব বিস্তার করে, তখন তা ধীরে ধীরে তাকে দুর্বলতার দিকে ঠেলে দেয়। ইসলাম এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য ইতিবাচক মনোভাব, কর্মপ্রবণতা এবং আল্লাহর প্রতি আস্থা রাখার শিক্ষা দেয়।
ইসলামী জীবনদর্শনে ইতিবাচকতার প্রথম ধাপ হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে কাজ বা আমলকে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, “তোমরা কাজ করো, অচিরেই আল্লাহ তোমাদের কাজ দেখবেন এবং তাঁর রাসুল ও মুমিনগণও।” সুরা তওবা, আয়াত: ১০৫।
ইসলামী চিন্তাধারায় শুধু কাজ করাই নয়, বরং তা নিষ্ঠা ও গুণগত মানের সঙ্গে সম্পন্ন করার প্রতিও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতিতে একজন মুমিনের দায়িত্ব হলো হতাশ না হয়ে সাধ্যমতো উৎপাদনশীল কাজে অংশ নেওয়া।
রাসুল (সা.)-এর একটি হাদিসেও জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কাজ করে যাওয়ার উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, কেয়ামত শুরু হয়ে গেলেও যদি কারও হাতে একটি খেজুর গাছের চারা থাকে, তবে সে যেন তা রোপণ করে দেয়।
ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, এই শিক্ষার মাধ্যমে মানুষকে বোঝানো হয়েছে যে পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক না কেন, ইতিবাচক থাকা এবং কল্যাণকর কাজে অংশ নেওয়া থেকে বিরত হওয়া উচিত নয়।
প্রবন্ধটিতে আরও বলা হয়েছে, প্রত্যেক মানুষের নিজের কাছে প্রশ্ন রাখা প্রয়োজন—সে সমাজ ও পরকালের জন্য কী ধরনের স্থায়ী কল্যাণকর কাজ রেখে যাচ্ছে।
এ ক্ষেত্রে জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়া, কাউকে উপদেশ দেওয়া, অন্যায়ের পথ থেকে নিজেকে বিরত রাখা, আত্মীয়তার সম্পর্ক পুনর্গঠন কিংবা বিপদগ্রস্ত মানুষকে সহায়তা করার মতো কাজকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
অবসরজীবন সম্পর্কেও ইসলাম বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করে। লেখক উল্লেখ করেছেন, অবসর মানে নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়া নয়। বরং বয়স ও সক্ষমতা অনুযায়ী সমাজে অবদান রাখাই একজন মানুষের দায়িত্ব।
ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (র.)-এর উদাহরণ তুলে ধরে বলা হয়েছে, তিনি জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত জ্ঞানচর্চা চালিয়ে গেছেন। ইসলামে উদ্দেশ্যহীন জীবনকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে বলেও প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া সমাজের দুর্বল ও সাধারণ মানুষের ইতিবাচক ভূমিকাও তুলে ধরা হয়েছে। নবীজি (সা.) বলেছেন, আল্লাহ এই উম্মতকে সাহায্য করেন দুর্বলদের দোয়া, সালাত ও আন্তরিকতার বরকতে।
শিশুদের ইতিবাচকভাবে গড়ে তোলার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পরিবারের ছোট শিশুদের হাসি, প্রাণচাঞ্চল্য ও আন্তরিকতা একজন মানুষের হতাশা দূর করতেও ভূমিকা রাখতে পারে বলে লেখায় উল্লেখ করা হয়েছে।
সবশেষে বলা হয়েছে, কোনো ভালো কাজকেই ছোট করে দেখা উচিত নয়। একটি হাসিমুখ, সামান্য দান বা ছোট সহানুভূতিও ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।
সিএ/এমআর


