পদার্থবিজ্ঞানের বর্তমান স্ট্যান্ডার্ড মডেল অনুযায়ী মহাবিশ্ব পরিচালিত হয় চারটি মৌলিক বলের মাধ্যমে। এগুলো হলো মহাকর্ষ বল, বিদ্যুৎচুম্বকীয় বল, শক্তিশালী নিউক্লিয় বল ও দুর্বল নিউক্লিয় বল। এই চার বলের সমন্বয়েই তারকা, গ্রহ, পরমাণু এবং কণার আচরণ ব্যাখ্যা করা হয়।
তবে দীর্ঘদিন ধরেই বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, স্ট্যান্ডার্ড মডেল সব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারছে না। বিশেষ করে ডার্ক ম্যাটার ও ডার্ক এনার্জির মতো রহস্যময় বিষয়গুলো এখনো পুরোপুরি ব্যাখ্যার বাইরে। এ কারণেই নতুন কোনো মৌলিক বলের অস্তিত্ব থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছিল।
গবেষক ডায়ানা ক্রেইক ও তাঁর সহকর্মীরা প্রচলিত কণা ত্বরণযন্ত্রের বদলে ‘আইসোটোপ শিফট স্পেকট্রোস্কোপি’ নামে সূক্ষ্ম একটি পদ্ধতি ব্যবহার করেন। এতে বৈদ্যুতিকভাবে চার্জিত ক্যালসিয়াম আয়নকে চৌম্বকীয় ক্ষেত্রের মধ্যে আটকে রেখে লেজারের সাহায্যে তাদের আচরণ পর্যবেক্ষণ করা হয়।
পরীক্ষায় দেখা যায়, বিভিন্ন ক্যালসিয়াম আইসোটোপের ইলেকট্রনের শক্তিস্তরের পরিবর্তন প্রচলিত হিসাবের সঙ্গে পুরোপুরি মিলছে না। গবেষকদের দাবি, এই বিচ্যুতির পেছনে কোনো অজানা বল কাজ করতে পারে, যা ইলেকট্রনের ওপর অতিরিক্ত প্রভাব ফেলছে।
ডায়ানা ক্রেইক বলেন, “কোনোভাবেই আমরা যা আশা করেছিলাম, তা দেখলাম না। সেটা ছিল আমাদের সবার জন্য ছিল খুবই রোমাঞ্চকর ব্যাপার।”
গবেষণাটির নির্ভুলতা আগের যেকোনো একই ধরনের পরীক্ষার তুলনায় প্রায় একশ গুণ বেশি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা। ফলাফল যাচাই করতে জার্মানি ও অস্ট্রেলিয়ার একাধিক স্বাধীন গবেষণা দলও পরীক্ষার তথ্য বিশ্লেষণ করে। তারাও একই ধরনের অসঙ্গতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, এই নতুন বলের সঙ্গে একটি অজানা কণার সম্পর্ক থাকতে পারে। তাত্ত্বিকভাবে এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘ইউকাওয়া পার্টিকল’। জাপানি নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী হিদেকি ইউকাওয়ার নাম অনুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ফার্মিল্যাবের ‘মিউওন জি-২’ পরীক্ষাতেও প্রচলিত মডেলের বাইরে অস্বাভাবিক ফল পাওয়া গেছে। দুটি ভিন্ন পরীক্ষার একই ধরনের ইঙ্গিত বিজ্ঞানীদের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
তবে গবেষকরা এখনই এটিকে চূড়ান্ত আবিষ্কার বলতে রাজি নন। তাদের মতে, আরও পরীক্ষা ও যাচাইয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে এটি সত্যিই নতুন কোনো মৌলিক বল কিনা, নাকি স্ট্যান্ডার্ড মডেলের কোনো অজানা সীমাবদ্ধতা।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, যদি সত্যিই পঞ্চম বলের অস্তিত্ব নিশ্চিত হয়, তাহলে তা হবে আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অন্যতম বড় আবিষ্কার। এতে মহাবিশ্বের গঠন, ডার্ক ম্যাটার এবং মহাকর্ষ সম্পর্কে মানুষের ধারণায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
সূত্র: সায়েন্স ইলাস্ট্রেটেড, উইকিপিডিয়া
সিএ/এমআর


