সাম্প্রতিক সময়ে মনোবিজ্ঞানে আলোচিত একটি ধারণা হলো ‘ডার্ক এমপ্যাথ’। এ ধরনের ব্যক্তিরা অন্যের অনুভূতি বোঝার ক্ষমতা রাখলেও তা ইতিবাচক কাজে ব্যবহার না করে নিজের স্বার্থে প্রয়োগ করেন।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, ডার্ক এমপ্যাথরা সাধারণত ‘ডার্ক ট্রায়াড’ ব্যক্তিত্ব বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। এই বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে নার্সিসিজম, ম্যাকিয়াভেলিয়ানিজম এবং সাইকোপ্যাথি।
নার্সিসিজমের ক্ষেত্রে ব্যক্তি অতিরিক্ত আত্মকেন্দ্রিক হন এবং নিজেকে অন্যদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ভাবেন। ম্যাকিয়াভেলিয়ানিজমে দেখা যায় কৌশলী আচরণ, যেখানে অন্যকে ব্যবহার করে নিজের লক্ষ্য পূরণ করা হয়। আর সাইকোপ্যাথির ক্ষেত্রে সহানুভূতির ঘাটতি ও আবেগ নিয়ন্ত্রণের সমস্যা দেখা যায়।
ডার্ক এমপ্যাথদের বিশেষত্ব হলো, তারা অন্যের আবেগ বুঝতে পারলেও সেটিকে প্রভাব বিস্তার বা নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। প্রথম দেখায় তারা আকর্ষণীয় ও বন্ধুসুলভ মনে হলেও ধীরে ধীরে তাদের আচরণের ভিন্ন দিক প্রকাশ পায়।
তাঁরা দ্রুত অন্যের দুর্বলতা শনাক্ত করতে পারেন এবং সহানুভূতির অভিনয় করে আস্থা অর্জন করেন। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে অপরাধবোধ কম থাকে এবং সম্পর্কের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রবণতা দেখা যায়।
এই ধরনের ব্যক্তিরা সাধারণত প্রকাশ্যে নেতিবাচক আচরণ করেন না, বরং আড়ালে থেকে মানসিক প্রভাব বিস্তার করেন। এ কারণেই তাঁদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, এমন পরিস্থিতিতে নিজের সীমারেখা পরিষ্কার রাখা, আচরণ পর্যবেক্ষণ করা এবং কথার চেয়ে কাজের দিকে নজর দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজন হলে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখাও জরুরি।
সূত্র: সায়েন্স ফোকাস
সিএ/এমআর


