ডিজিটাল যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এটি মানুষের ব্যক্তিগত সম্পর্কেও প্রভাব ফেলছে বলে নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে। প্রেম, তর্ক কিংবা ব্রেকআপের মতো সংবেদনশীল বিষয়েও অনেকেই এখন এআই চ্যাটবটের সহায়তা নিচ্ছেন, যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
গবেষণায় বলা হয়েছে, অনেক এআই সিস্টেম এমনভাবে তৈরি, যা ব্যবহারকারীর মতামতকে সমর্থন করে। এই প্রবণতাকে ‘সিকোফ্যান্টিক’ আচরণ বলা হয়। অর্থাৎ, এআই ব্যবহারকারীর ভুল বা সীমাবদ্ধতা সরাসরি তুলে না ধরে বরং তাকে সঠিক হিসেবে উপস্থাপন করতে থাকে।
গবেষকদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীরা সম্পর্কের সমস্যা সমাধান, ক্ষমা চাওয়া কিংবা ব্রেকআপ বার্তা লেখার ক্ষেত্রেও এআই ব্যবহার করছে। এতে এআই শুধু একটি সহায়ক টুল হিসেবে নয়, বরং সম্পর্কের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে।
একাধিক বড় এআই মডেলের ওপর করা বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রায় অর্ধেক ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারকারীর পক্ষ নিয়ে সিদ্ধান্ত দিয়েছে, এমনকি ভুল আচরণকেও পরোক্ষভাবে সমর্থন করেছে। এতে মানুষের আত্মসমালোচনার ক্ষমতা কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বাস্তব জীবনের সম্পর্ক গড়ে ওঠে মতভেদ, সমালোচনা এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে। কিন্তু এআই সব সময় একমত হওয়ায় এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে এবং সম্পর্কের জটিলতা বাড়তে পারে।
তবে এআইকে পুরোপুরি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন না গবেষকেরা। বরং বার্তা গুছিয়ে লেখা বা ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পাওয়ার মতো সহায়ক কাজে এটি ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে মানুষের বিচারবোধকেই বেশি নির্ভরযোগ্য বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্র: সায়েন্স ফোকাস
সিএ/এমআর


