বাংলাদেশের পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়াম জ্বালানি দেশে পৌঁছেছে। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে এই জ্বালানি পরিবহন করা হয়। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে পারমাণবিক জ্বালানির নিরাপত্তা ও ব্যবহারের প্রক্রিয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে।
পারমাণবিক জ্বালানি জীবাশ্ম জ্বালানির মতো নয়। এটি ইউরেনিয়াম-২৩৫ সমৃদ্ধ একটি বিশেষ ধাতব পদার্থ, যা বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়। ক্ষুদ্র আকারের ইউরেনিয়াম পেলেটকে ধাতব টিউবে ভরে ফুয়েল রড তৈরি করা হয় এবং একাধিক রড মিলে ফুয়েল অ্যাসেম্বলি গঠন করে, যা রিয়্যাক্টরে ব্যবহার করা হয়।
নিউক্লিয়ার চুল্লিতে ফিশন বিক্রিয়ার মাধ্যমে এই জ্বালানি থেকে তাপ উৎপন্ন হয়। সেই তাপ দিয়ে পানি বাষ্পে রূপান্তরিত করে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। এটি একটি নিয়ন্ত্রিত চেইন রিয়্যাকশন প্রক্রিয়া।
নিউক্লিয়ার জ্বালানির শক্তি অত্যন্ত বেশি। মাত্র সাড়ে ৪ গ্রাম ইউরেনিয়াম পেলেট দিয়ে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব, তার জন্য শত শত কেজি কয়লা বা গ্যাস প্রয়োজন হয়। ফলে এটি অত্যন্ত কার্যকর জ্বালানি হিসেবে বিবেচিত।
তবে দুর্ঘটনা ঘটলে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে জ্বালানি উৎপাদন, সংরক্ষণ ও ব্যবহারে একাধিক স্তরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।
ব্যবহৃত জ্বালানি বিশেষভাবে সংরক্ষণ করা হয় এবং আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী উচ্চমাত্রার বর্জ্য পুনঃপ্রক্রিয়াকরণের জন্য রাশিয়ায় ফেরত পাঠানো হবে। দীর্ঘমেয়াদে এসব বর্জ্য নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করা হয়।
রূপপুর প্রকল্পে প্রতিটি চুল্লিতে ১৬৩টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি ব্যবহার করা হবে এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর এসব পরিবর্তন করা হবে। জ্বালানির খরচ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত হিসাব এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবে এটি একটি ব্যয়বহুল প্রযুক্তি হিসেবে বিবেচিত।
সিএ/এমআর


