হজ পালনের উদ্দেশ্যে মক্কা ও মদিনায় যাত্রা করা ব্যক্তিদের কাছে দোয়া চাওয়া এবং তাঁদের সহায়তায় অর্থ প্রদান সমাজে প্রচলিত একটি প্রথা। ইসলামি শরিয়তের আলোকে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন ফকিহরা।
ইসলামে অন্যের কাছে দোয়া চাওয়া বৈধ এবং এটি নবী (সা.) ও সাহাবিদের আমল দ্বারা প্রমাণিত। পবিত্র স্থানগুলোতে দোয়া কবুলের সম্ভাবনা বেশি থাকায় অনেকেই হাজিদের কাছে দোয়ার অনুরোধ করেন। কেউ যদি হজের খরচে সহায়তা করে এবং বিনিময়ে দোয়া চায়, তাতে শরিয়ত কোনো বাধা দেয় না।
এ ধরনের অর্থ সহায়তা ‘হাদিয়া’ বা উপহার হিসেবে দেওয়া যেতে পারে। মহানবী (সা.) বলেছেন, “তোমরা একে অপরকে উপহার দাও, তবে তোমাদের মধ্যে মহব্বত বা ভালোবাসা বৃদ্ধি পাবে।” আবার প্রয়োজনে এটি সদকা হিসেবেও দেওয়া যেতে পারে।
ইসলামি বিধানে বদলি হজের ধারণাও রয়েছে, যেখানে একজন অন্যের পক্ষ থেকে হজ সম্পন্ন করে। একইভাবে আংশিক সহায়তার ক্ষেত্রেও দোয়ার প্রত্যাশা করা গ্রহণযোগ্য।
তবে এ ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অর্থ প্রদান যেন কোনোভাবে পারিশ্রমিক বা চুক্তির রূপ না নেয়। দোয়া একটি ইবাদত, যা অর্থের বিনিময়ে কেনা যায় না। এটি হতে হবে আন্তরিকতা ও সহমর্মিতার প্রকাশ।
সার্বিকভাবে, হাজিকে সহায়তা করা একদিকে যেমন দোয়ার প্রত্যাশা, অন্যদিকে এটি একটি সামাজিক ও ধর্মীয় দায়িত্বের প্রতিফলন।
সিএ/এমআর


