হাম ও রুবেলা—দুটি ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ হলেও এদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। অনেকেই দুটি রোগকে একই মনে করলেও চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এদের লক্ষণ, ঝুঁকি ও প্রভাব ভিন্ন।
হাম বা মিজেলস সাধারণত তীব্র জ্বরের সঙ্গে দেখা দেয় এবং শরীরে র্যাশ পাঁচ থেকে সাত দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এ রোগে নিউমোনিয়া বা ডায়রিয়ার মতো জটিলতাও দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে রুবেলা তুলনামূলকভাবে মৃদু জ্বরের সঙ্গে তিন দিনের মতো র্যাশ সৃষ্টি করে এবং সাধারণত ত্বকে স্থায়ী দাগ ফেলে না।
রুবেলা ভাইরাস শরীরে প্রবেশের ১৪ থেকে ২১ দিনের মধ্যে লক্ষণ প্রকাশ পায়। প্রথমে মুখে লালচে দানা দেখা যায়, যা দ্রুত সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। এর সঙ্গে হালকা জ্বর, কানের পেছনে বা ঘাড়ে লিম্ফ নোড ফুলে যাওয়া, চোখ লাল হওয়া, সর্দি-কাশি এবং বড়দের ক্ষেত্রে জয়েন্টে ব্যথা থাকতে পারে।
যদিও শিশুদের ক্ষেত্রে রুবেলা সাধারণত কম ঝুঁকিপূর্ণ, তবে গর্ভবতী নারীদের জন্য এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক। গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে সংক্রমণ হলে শিশুর হার্টে ত্রুটি, অন্ধত্ব, বধিরতা বা মস্তিষ্কের বিকাশে সমস্যা দেখা দিতে পারে, যা কনজেনিটাল রুবেলা সিনড্রোম নামে পরিচিত।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, উপসর্গ দেখা দিলে রোগীকে আলাদা রাখা, পর্যাপ্ত তরল খাবার দেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের ক্ষেত্রে সতর্কতা বাড়ানো প্রয়োজন।
রুবেলা প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকাদান। নির্ধারিত সময়ে এমআর বা এমএমআর টিকা গ্রহণ করলে এ রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
সিএ/এমআর


