অনেকেই মনে করেন সুখ একটি অর্জনের বিষয়, যা জীবনের নির্দিষ্ট কোনো পর্যায়ে পাওয়া যায়। তবে ষাটের পর অনেক মানুষ উপলব্ধি করেন, সুখ আসলে কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য নয়, বরং সাধারণ জীবনযাপনের মধ্যেই এর উপস্থিতি রয়েছে।
জীবনের দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের পর অনেকেই যখন অবসরে যান, তখন তারা ছোট ছোট কাজের মধ্যে আনন্দ খুঁজে পান। দৈনন্দিন জীবনকে ধীরে উপভোগ করা, নিজের মতো সময় কাটানো এবং স্বল্প প্রত্যাশার মধ্যেই শান্তি খুঁজে নেওয়ার প্রবণতা বাড়ে।
প্রবীণদের জীবনে দেখা যায়, তারা ঘর সাজানো, হাতের কাজ, বাগান করা বা হাঁটার মতো সাধারণ কর্মকাণ্ডে তৃপ্তি খুঁজে পান। সামাজিক যোগাযোগ, প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং নিয়মিত রুটিনও তাদের মানসিক স্বস্তিতে ভূমিকা রাখে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়। তারা উত্তেজনার চেয়ে শান্তি, সাফল্যের চেয়ে সন্তুষ্টি এবং অর্জনের চেয়ে বর্তমান মুহূর্তকে বেশি গুরুত্ব দিতে শেখেন।
অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, যারা অন্যের কাছে নিজেদের সুখ প্রমাণ করার চাপ থেকে মুক্ত থাকেন, তারাই বেশি স্বস্তিতে থাকেন। তাদের জীবনে প্রত্যাশা কম থাকে এবং যা আছে, তা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকার মানসিকতা তৈরি হয়।
গবেষণাতেও উঠে এসেছে, সুখকে লক্ষ্য হিসেবে না দেখে স্বাভাবিক জীবনযাপন উপভোগ করলে মানসিক সুস্থতা বাড়ে। নিয়মিত হাঁটা, পর্যাপ্ত ঘুম, সামাজিক সম্পর্ক বজায় রাখা এবং ছোট ছোট আনন্দ উপভোগ করা প্রবীণদের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনের শেষভাগে সুখ খুঁজে পেতে বড় কোনো অর্জনের প্রয়োজন হয় না; বরং সাধারণ জীবনকে গ্রহণ করার মধ্যেই রয়েছে প্রকৃত তৃপ্তি।
সিএ/এমআর


