ইসলাম জীবনব্যবস্থার প্রতিটি ক্ষেত্রে ভারসাম্য ও মধ্যপন্থাকে গুরুত্ব দেয়। শারীরিক সুস্থতার ক্ষেত্রেও একই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিমিত আহার, নিয়মিত চলাফেরা এবং ব্যায়ামের মাধ্যমে শরীর সুস্থ রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়। অতিরিক্ত স্থূলতা বা অস্বাভাবিক মুটিয়ে যাওয়াকে ইসলামে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শারীরিক গঠন ছিল ভারসাম্যপূর্ণ—তিনি অতিরিক্ত রোগাও ছিলেন না, আবার মোটাও ছিলেন না। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চেয়ে বেশি সুন্দর কাউকে দেখিনি, যেন সূর্য তাঁর ললাটে বিচরণ করছে। আর রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চেয়ে দ্রুতগতির হাঁটা কাউকে দেখিনি, যেন জমিন তার জন্য গুটিয়ে যেত। আমি তাঁর সঙ্গে হেঁটে হাঁফিয়ে যেতাম, অথচ তাঁর কিছুই হতো না। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ৩৬৪৮)
শারীরিক সক্ষমতা ও সক্রিয়তার দৃষ্টান্ত হিসেবেও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবন গুরুত্বপূর্ণ। তিনি তাঁর স্ত্রী আয়েশা (রা.)-এর সঙ্গে দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন এবং শিশুদেরও খেলাধুলায় উৎসাহিত করেছেন।
হাদিসে আরও এসেছে, ইমরান ইবনে হুছাইন (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, সর্বোত্তম যুগ হলো আমার যুগ, এরপর যারা তাদের সঙ্গে মিলিত হবে, এরপর যারা এদের সঙ্গে মিলিত হয়ে আসবে। অতঃপর এমন এক যুগ আসবে, যাদের (বেশির ভাগ) আমানত রক্ষা করবে না, বরং খিয়ানত করবে, আর না দেখে (মিথ্যা) সাক্ষ্য দেবে, মানত পুরা করবে না। আর তাদের মধ্যে স্থূলতা ও মোটা হওয়া প্রকাশ পাবে। (বুখারি, হাদিস : ২৬৫১)
ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, অপ্রয়োজনীয় ভোগবিলাস ও অতিরিক্ত খাদ্যগ্রহণের ফলে শরীরের স্থূলতা বাড়ে, যা মানবজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এক বর্ণনায় উল্লেখ আছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) এক ব্যক্তির অতিরিক্ত ভুঁড়ির দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘এটি না থাকলে তোমার জন্য কল্যাণকর হতো।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ১৫৮৬৮)
আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, বস্তুত ঈমানদাররা এক ভুঁড়িতে খায়, আর কাফির-মুনাফিকরা সাত ভুঁড়িতে খায়। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫৩৯৪)
সাহাবিদের জীবনাচরণেও শারীরিক সুস্থতা ও সংযমের গুরুত্ব স্পষ্ট। উমর ফারুক (রা.) এক অতিরিক্ত স্থূল ব্যক্তিকে সতর্ক করে বলেন, এটি বরকত নয়, বরং শাস্তির কারণ হতে পারে। একইভাবে শিশুদের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য সাঁতার, তীরন্দাজি ও ঘোড়দৌড় শেখানোর নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
ইসলামি শিক্ষায় শরীরচর্চা ও সংযমী জীবনযাপনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হয়। আধুনিক সময়ে এই শিক্ষাগুলো থেকে দূরে সরে যাওয়ার কারণে অলসতা ও নানা শারীরিক সমস্যার প্রবণতা বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সিএ/এমআর


