বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক স্থলচর প্রাণী হিসেবে পরিচিত ১৯৪ বছর বয়সী কচ্ছপ জোনাথনের মৃত্যুর ভুয়া খবর ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্বজুড়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। পরে নিশ্চিত হওয়া গেছে, দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের সেন্ট হেলেনা দ্বীপে জোনাথন সুস্থভাবেই বেঁচে আছে।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম, যার মধ্যে বিবিসি, ডেইলি মেইল ও ইউএসএ টুডেও রয়েছে, ভুলবশত এই মৃত্যুর খবর প্রচার করে। মূলত জোনাথনের চিকিৎসকের পরিচয়ে তৈরি একটি ভুয়া এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে এ তথ্য ছড়ানো হয়।
‘জো হলিন্স’ নাম ব্যবহার করে তৈরি ওই ভুয়া অ্যাকাউন্ট থেকে দাবি করা হয়, “খুবই ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানাচ্ছি, বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক স্থলচর প্রাণী আমাদের প্রিয় জোনাথন আজ সেইন্ট হেলেনায় শান্তিপূর্ণভাবে মারা গেছে।
“দীর্ঘ বছর ধরে এর চিকিৎসক হিসেবে একে দেখাশোনা করা, নিজের হাতে কলা খাওয়ানো আর রোদে এর বিশ্রাম নেওয়া উপভোগ করা আমার জন্য সম্মানের বিষয় ছিল। সে সহনশীলতা ও দীর্ঘায়ুর এক অনন্য নিদর্শন রেখে গেছে, যা কোটি কোটি মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে। শান্তিতে ঘুমাও বন্ধু, তোমাকে খুব মনে পড়বে।”
এই পোস্টটি প্রায় ২০ লাখ মানুষ দেখার পর বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পরে অনুসন্ধানে জানা যায়, অ্যাকাউন্টটি ব্রাজিল থেকে পরিচালিত হচ্ছিল এবং জোনাথনের প্রকৃত চিকিৎসক কোনো এক্স অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেন না।
প্রকৃত চিকিৎসক জানিয়েছেন, জোনাথন এখনো জীবিত এবং সুস্থ আছে। তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন, তার পরিচয় ব্যবহার করে কেউ ক্রিপ্টোকারেন্সি অনুদান আদায়ের চেষ্টা করেছে। তিনি বলেন, “আমার ধারণা, এক্স-এ যে ব্যক্তি আমার পরিচয় দিয়ে এ পোস্ট করেছে সে আসলে ক্রিপ্টো অনুদান চাইছে। ফলে বিষয়টি কোনো এপ্রিল ফুল বা নিছক কৌতুক নয়। এমনটি প্রতারণা।”
ঘটনাটি সামনে আসার পর গভর্নর নাইজেল ফিলিপস নিজেই জোনাথনের খোঁজ নিতে বের হন এবং তাকে চারণভূমিতে ঘুমন্ত অবস্থায় খুঁজে পান। পরে তিনি নিশ্চিত করেন, কচ্ছপটি জীবিত রয়েছে।
জোনাথন একটি ‘সিশেলস জায়ান্ট টর্টয়েজ’ প্রজাতির কচ্ছপ এবং ১৮৮২ সাল থেকে সেন্ট হেলেনা দ্বীপের গভর্নরের বাসভবনে বসবাস করছে। বর্তমানে ছানি পড়ার কারণে এটি অন্ধ এবং ঘ্রাণশক্তিও হারিয়েছে, তবুও সে সুস্থ রয়েছে এবং নিয়মিত খাদ্য গ্রহণ করে।
জোনাথন স্থানীয়ভাবে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি প্রাণী, এমনকি দ্বীপটির ৫ পেন্স মুদ্রাতেও এর ছবি রয়েছে। তার দীর্ঘ জীবনের রহস্য হিসেবে গভর্নর জানিয়েছেন, নিয়মিত ঘাস খাওয়া, নির্দিষ্ট সময়ে ফল ও সবজি গ্রহণ এবং শান্ত জীবনযাপন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
সিএ/এমআর


