বুরকিনা ফাসোর জনগণকে গণতন্ত্র ভুলে যেতে আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির সামরিক জান্তা শাসক ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ত্রাওরে। বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন।
আরব নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ত্রাওরে ক্ষমতা দখল করেন। ওই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তিনি আগের সামরিক নেতৃত্বকেও ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেন।
ক্ষমতায় আসার পর থেকে তিনি ভিন্নমত কঠোরভাবে দমন করে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গত বছর দেশটির সামরিক সরকার নির্বাচন কমিশন বিলুপ্ত করে। এরপর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সেনা-নিয়ন্ত্রিত সংসদ সব রাজনৈতিক দল ভেঙে দেয়, যদিও এসব রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম ২০২২ সাল থেকেই স্থগিত ছিল।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আরটিবিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ত্রাওরে বলেন, ‘আমরা এখন নির্বাচন নিয়েই কথা বলছি না। মানুষকে গণতন্ত্র ভুলে যেতে হবে। গণতন্ত্র আমাদের জন্য নয়।’ তার এই মন্তব্য দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
২০২২ সালের জানুয়ারিতে প্রথম অভ্যুত্থানের পর বুরকিনা ফাসোতে গণতান্ত্রিক শাসনে ফেরার একটি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, যা ২০২৪ সালের জুলাইয়ে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে পরবর্তীতে সামরিক সরকার রূপান্তরকাল আরও পাঁচ বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলে দীর্ঘদিনের সহিংসতায় বিপর্যস্ত দেশটির নেতৃত্বে সামরিক শাসনের মেয়াদ আরও দীর্ঘায়িত হয়।
জাতিসংঘ বুরকিনা ফাসোকে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং নাগরিকদের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। ক্ষমতায় আসার পর থেকে ত্রাওরের নেতৃত্বাধীন জান্তা সরকার পশ্চিমা দেশগুলোর, বিশেষ করে ফ্রান্সের প্রতি বিরূপ অবস্থান নিয়েছে। একইসঙ্গে বহু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের কার্যক্রম নিষিদ্ধ বা স্থগিত করা হয়েছে এবং কিছু সাংবাদিককে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সিএ/এএ


