হজরত ইবরাহিম (আ.) তাঁর কওমকে একত্ববাদের পথে আহ্বান জানানোর জন্য সব ধরনের প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন। তিনি যুক্তি, বিতর্ক এবং বাস্তব উদাহরণের মাধ্যমে মূর্তিপূজার অসারতা তুলে ধরেন। তবে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পরও তাঁর কওমের মধ্যে ঈমানের আলো জ্বলেনি।
এমনকি যখন তাঁকে অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপ করা হয় এবং তিনি অলৌকিকভাবে রক্ষা পান, তবুও সেই দৃশ্য তাদের মনোভাব পরিবর্তন করতে পারেনি। ফলে দাওয়াতের সব পথ বন্ধ হয়ে গেলে তিনি জন্মভূমি ত্যাগের কঠিন সিদ্ধান্ত নেন।
পবিত্র কোরআনে তাঁর এই সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, “তিনি বললেন, আমি আমার রবের উদ্দেশ্যে হিজরত করছি।” (সুরা আনকাবুত, আয়াত: ২৬)। আলেমরা বলেন, যখন কোনো জাতি সত্যের আহ্বানে সাড়া দেয় না, তখন সেখানে অবস্থান করা অর্থহীন হয়ে পড়ে।
এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন, “আমার মুমিন বান্দাগণ, নিশ্চয়ই আমার জমিন প্রশস্ত। অতএব তোমরা আমারই ইবাদত করো।” (সুরা আনকাবুত, আয়াত: ৫৬)। এই আয়াতটি মূলত সেই সব মুমিনদের জন্য নির্দেশনা, যারা নির্যাতনের কারণে নিজেদের ঈমান প্রকাশ করতে পারছিলেন না।
তাফসিরবিদদের মতে, যখন কোনো স্থানে ধর্ম পালনে বাধা সৃষ্টি হয় বা অন্যায়-অবিচার বেড়ে যায়, তখন নিরাপদ স্থানে হিজরত করা উত্তম। এতে আল্লাহর জমিনে স্বাধীনভাবে ইবাদত করার সুযোগ সৃষ্টি হয়।
স্বদেশ ত্যাগ মানুষের জন্য কষ্টকর হলেও আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের জন্য বিশ্বজুড়ে রিজিক ও আশ্রয়ের নিশ্চয়তা দিয়েছেন। একজন মুমিনের কাছে সেই স্থানই প্রিয়, যেখানে সে নির্ভয়ে আল্লাহর ইবাদত করতে পারে।
সিএ/এমআর


