রাজবাড়ীর সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের লিমা আক্তার (২৬) পদ্মায় বাসডুবির ঘটনায় নিহত হয়েছেন। তিনি রাজবাড়ী সরকারি কলেজে স্নাতক (পাস) শেষ বর্ষের ছাত্রী এবং ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। লিমা পরিবারকে আর্থিকভাবে সাহায্য করার চেষ্টা করতেন এবং বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। বৃহস্পতিবার ( ৫ ডিসেম্বর) দুপুরে পরিবারের সদস্যরা মুঠোফোনে তাঁর ছবি দেখিয়ে শোক প্রকাশ করেন।
লিমার বাবা সোবহান মোল্লা একজন দরিদ্র কৃষক। তার সংসারে স্ত্রী, দুই মেয়ে, একমাত্র ছেলে ও নাতি রয়েছেন। বড় মেয়ে সিমা আক্তারের স্বামী সৌদি আরবে থাকেন। লিমা তিন ভাই–বোনের মধ্যে দ্বিতীয় সন্তান। পরিবারে তাঁর মৃত্যুতে সকলের স্বপ্ন থমকে গেছে।
দৌলতদিয়া ঘাটে পদ্মায় যাত্রীবাহী বাসডুবির ঘটনা ২৫ মার্চ বিকেলে ঘটে। রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার ৩ নম্বর ফেরিঘাটের সামনে পদ্মা নদীতে বাসটি ডুবে অন্তত ২৬ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে রাজবাড়ী জেলার ১২টি পরিবারের ১৮ জন ছিলেন। লিমা দুর্ঘটনার সময় ঢাকায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
লিমার বড় বোন সিমা আক্তার ঘটনার দিনটি স্মরণ করে বলেন, ‘ঈদের ছুটি শেষ হওয়ায় লিমা ঢাকা যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তিন দিন আগে সে অনলাইনে বাসের টিকিট কেটে নিয়েছিল। দুপুরে সবাই একত্রে খাওয়া–দাওয়া করি। বেলা তিনটার দিকে রাজবাড়ী শহর পর্যন্ত পৌঁছে তাকে আগায় দিয়ে আসি। এ সময় লিমা বলেছিল, “আপু, তুই সবাইকে দেখে রাখিস। অমিতকে দেখে রাখিস। আমি ঢাকায় পৌঁছে ফোন করব।” এটি ছিল আমার সঙ্গে ওর শেষ কথোপকথন। পরে টেলিভিশনে দেখলাম বাসডুবির খবর।’
লিমার বাবা সোবহান মোল্লা জানান, ‘বাসডুবির খবর পেয়ে আমি দ্রুত ছুটে যাই মুরগির ফার্ম বাস কাউন্টারে। কাউন্টার থেকে জানানো হয়, তিনটার দিকে সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি পদ্মায় ডুবে গেছে। তখন আমার হাত-পা চলা বন্ধ হয়ে আসে। পরদিন সকালে লাশ বাড়িতে আনা হয় এবং রামচন্দ্রপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়। এর মধ্য দিয়ে আমার সবকিছু শেষ হয়ে গেছে।’
লিমার ছোট ভাই অমিত মোল্লা বলেন, ‘বাবা দরিদ্র কৃষক। আমি এইচএসসি পাসের পর ঢাকায় চাকরিতে যোগ দিয়েছি। লিমা আমাকে প্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্ন দেখতেন। আপু জাপান যাওয়ার জন্য ঢাকায় বিশেষ কোর্স করছিল। এ বছরই তাঁর জাপান যাওয়ার কথা ছিল। আমরা অনেক স্বপ্ন দেখেছিলাম, লিমার মৃত্যু সব স্বপ্ন শেষ করে দিয়েছে।’
সিএ/এমই


