বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির সোনাইছড়ি ইউনিয়নের বটতলা মুসলিমপাড়ায় একটি অগভীর ডোবার মধ্যে হাতির শাবকের মরদেহ পড়ে আছে। মরদেহের বেশির ভাগ অংশ পানিতে ডুবে রয়েছে। শাবকের পাশে মা হাতি অর্ধেক শরীর ডুবিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, আর অল্প দূরে ডোবার কিনারে একটি পুরুষ হাতিও শাবকের পাশে অবস্থান করছে। তিন দিন ধরে মৃত শাবকের জন্য হাতি দম্পতি এভাবে শোক প্রকাশ করছে। দূরে দাঁড়িয়ে এই দৃশ্য দেখা স্থানীয় মানুষ ও বন বিভাগের কর্মকর্তাদের চোখে জল আনে।
এ ঘটনায় জানা গেছে, মঙ্গলবার থেকে এলাকার একটি টিলার পাদদেশের ডোবার মধ্যে হাতি দম্পতিকে এই অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। মৃত শাবকের পাশ থেকে তারা এক মুহূর্তও সরেনি। পুরুষ হাতিটি রাতে খাবার খেতে জঙ্গলে ঢুকলেও, পরবর্তীতে আবার ফিরে এসে শাবকের পাশে দাঁড়ায়। মা হাতিও খাবার খেয়ে শাবকের পাশে ফিরে আসে। বন বিভাগের কর্মকর্তারা তিন দিন ধরে তাদের ওপর নজর রাখছেন।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে নাইক্ষ্যংছড়ি-ঘুমধুম সড়কে বটতলা মুসলিমপাড়া অবস্থিত। এই এলাকায় থাকা বনাঞ্চল কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের রাজারকুল রেঞ্জের অধীনে।
নাইক্ষ্যংছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, আপাতত হাতি দম্পতিকে বিরক্ত করা হবে না। তারা শোকে কাতর, তাই শোকের ধকল কমা পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।
সোনাইছড়ি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মিলন তঞ্চঙ্গ্যা জানান, মঙ্গলবার বিকেল থেকে হাতি দম্পতির করুণ দশা দেখা গেছে। স্থানীয়রা ধারণা করছেন, শাবকটি অসুস্থ হয়ে মায়ের দুধ পান করতে না পারায় মারা গেছে।
কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, নাইক্ষ্যংছড়ির সোনাইছড়ি হয়ে মিয়ানমারে হাতির চলাচলের একটি রুট আছে। ওই রুটে মিয়ানমার থেকে আসার বা এদিকের পথে যাওয়ার সময় শাবকটি টিলা থেকে ডোবায় পড়ে মারা যেতে পারে। বাচ্চার বয়স ছয়-সাত মাস হতে পারে। বন বিভাগের লোকজন শোকাহত হাতি দম্পতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছেন। মা হাতি শাবকের মরদেহ ছেড়ে যেতে চাইছে না। শাবকের মরদেহ উদ্ধার করা হবে, ময়নাতদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর কারণ নির্ধারণের চেষ্টা করা হবে।
সিএ/এমই


