জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি ও জ্বালানি ব্যবহারে সচেতনতা বাড়াতে বিশ্বজুড়ে পালিত হয়েছে ‘আর্থ আওয়ার’। স্থানীয় সময় ২৮ মার্চ রাতে বিভিন্ন দেশে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। নিউজিল্যান্ড থেকে শুরু হয়ে ধাপে ধাপে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে এই বৈশ্বিক উদ্যোগ।
আর্থ আওয়ার উপলক্ষে জার্মানির বার্লিনে বিখ্যাত ব্র্যান্ডেনবার্গ গেটসহ বিভিন্ন স্থাপনার আলো এক ঘণ্টার জন্য নিভিয়ে রাখা হয়। একইভাবে বিশ্বের নানা দেশে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, আবাসিক ভবন ও রেস্তোরাঁয় অপ্রয়োজনীয় আলো বন্ধ রাখা হয়।
২০০৬ সালে অস্ট্রেলিয়ায় শুরু হওয়া এই উদ্যোগটি এখন পরিবেশ সচেতনতার একটি শক্তিশালী বৈশ্বিক প্রতীকে পরিণত হয়েছে। এবারের আয়োজন ছিল এর ২০তম বর্ষপূর্তি। ব্যক্তি উদ্যোগ থেকে শুরু করে বড় বড় প্রতিষ্ঠানও এতে অংশ নেয়।
ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ফান্ড ফর নেচারের আয়োজনে পরিচালিত এই কর্মসূচি গত দুই দশকে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আয়োজকদের মতে, বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নানা সংকট থাকলেও জলবায়ু পরিবর্তনের গুরুত্ব কোনোভাবেই কমেনি।
ডব্লিউডব্লিউএফ জার্মানির জলবায়ুবিষয়ক প্রধান ভিভিয়ান রাডাতজ বলেন, ‘বর্তমানে অনেক বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের ভিড়ে জলবায়ু সংকট বারবার আড়ালে চলে যাচ্ছে। কিন্তু এই সংকট হারিয়ে যায়নি, বরং এটি অন্যান্য অনেক সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে। আর্থ আওয়ারের মাধ্যমে আমরা জলবায়ু রক্ষার বিষয়টি আবার জনসমক্ষে নিয়ে আসছি। আমরা এটি দৃশ্যমান করছি যে মানুষ এই বিষয়ে সচেতন এবং বিষয়টিকে রাজনৈতিক এজেন্ডার একেবারে শীর্ষে রাখা জরুরি।’
শুরুতে একটি শহরভিত্তিক কর্মসূচি হলেও এখন এটি বিশ্বব্যাপী আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। যদিও এক ঘণ্টার জন্য বাতি নিভিয়ে সরাসরি কার্বন নিঃসরণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব নয়, তবে এটি কোটি মানুষের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। এবারের আয়োজনে অংশ নেওয়া দেশগুলো প্লাস্টিক দূষণ কমানো ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে।
সিএ/এমআর


