কুমিল্লা জেলার রেলক্রসিংগুলো দিন দিন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। অরক্ষিত ক্রসিং, অব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ের অভাবে নিয়মিত দুর্ঘটনা ঘটছে এবং প্রাণহানির সংখ্যা বাড়ছে।
গত পাঁচ বছরে বৈধ ও অবৈধ রেলক্রসিংয়ে অন্তত ৩৫৪ জন নিহত হয়েছেন। তবুও ঝুঁকি কমাতে দৃশ্যমান কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
সম্প্রতি মার্চ মাসে পদুয়ার বাজার এলাকায় ট্রেন ও যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে ১২ জন নিহত হন এবং আহত হন আরও অনেকে। এর আগে বুড়িচং এলাকায় অটোরিকশা দুর্ঘটনায় ৭ জনের মৃত্যু ঘটে। এসব ঘটনা পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে।
জেলায় ২১টি গেইটযুক্ত ক্রসিং থাকলেও অন্তত ৫৯টি অরক্ষিত ক্রসিং রয়েছে, যেখানে কোনো গেইট বা গেইটম্যান নেই। অনেক স্থানে সিগন্যাল লাইটও অকার্যকর। ফলে পথচারী ও চালকেরা আগাম সতর্কতা পান না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু গেইটম্যান দায়িত্বে অবহেলা করছেন, এমনকি রাতে দায়িত্ব না পালন করে অন্যদের দিয়ে কাজ করাচ্ছেন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রতিবছরই দুর্ঘটনার সংখ্যা উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এলজিইডি অনেক ক্ষেত্রে রেলওয়ের সঙ্গে সমন্বয় ছাড়াই সড়ক নির্মাণ করায় অরক্ষিত ক্রসিং বেড়েছে।
রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব অবৈধ ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনার দায় তারা নেবে না এবং এ দায় এলজিইডিকে নিতে হবে। অন্যদিকে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ বলছে, বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে।
তবে মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন না থাকায় প্রশ্ন উঠছে উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না। বিশেষজ্ঞদের মতে, সমন্বিত পরিকল্পনা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার না করলে এই দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব নয়।
সিএ/এমআর


