বর্তমানে সূর্য যে অবস্থানে রয়েছে, কয়েক শ কোটি বছর আগে সেটি সেখানে ছিল না বলে নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে। বিজ্ঞানীদের মতে, প্রায় ৪০০ থেকে ৬০০ কোটি বছর আগে সূর্য মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির ভেতরের অঞ্চল থেকে বাইরের দিকে সরে আসে। একই সময়ে বিপুলসংখ্যক নক্ষত্রও একইভাবে স্থান পরিবর্তন করেছে, যা গ্যালাক্সির বৃহৎ পরিসরের এক ধরনের পরিযান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
জাপানের টোকিও মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক দাইসুকে তানিগুচির নেতৃত্বে একদল গবেষক সূর্যের কাছাকাছি থাকা ‘সোলার টুইন’ নক্ষত্র নিয়ে এই গবেষণা পরিচালনা করেন। এই ধরনের নক্ষত্রের তাপমাত্রা, মাধ্যাকর্ষণ ও রাসায়নিক গঠন সূর্যের সঙ্গে প্রায় অভিন্ন। ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার গাইয়া মিশনের তথ্য ব্যবহার করে গবেষকেরা সূর্যের আশপাশের নক্ষত্রগুলোর ওপর একটি পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষণ করেন।
গবেষণায় দেখা যায়, সূর্যের সমবয়সী বহু নক্ষত্র কয়েক শ কোটি বছর আগে গ্যালাক্সির কেন্দ্রীয় অঞ্চল থেকে বর্তমান অবস্থানে চলে এসেছে। নক্ষত্রের বয়স নির্ধারণে তাদের আলো ও রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে কম্পিউটার মডেলের মাধ্যমে এই ফলাফল পাওয়া গেছে।
বিজ্ঞানীরা জানান, মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্রে একটি দীর্ঘ দণ্ডাকৃতির কাঠামো রয়েছে, যা নক্ষত্রের গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করে। অতীতে ধারণা করা হতো, এই অঞ্চলের মাধ্যাকর্ষণ নক্ষত্রগুলোকে বাইরে যেতে বাধা দেয়। তবে নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, এই কাঠামো গঠনের সময় মাধ্যাকর্ষণ শক্তি অস্থিতিশীল ছিল, যার ফলে সূর্যসহ অনেক নক্ষত্র কেন্দ্র থেকে সরে আসতে সক্ষম হয়।
গ্যালাক্সির কেন্দ্র থেকে দূরে সরে আসা পৃথিবীর জন্য তুলনামূলক নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করেছে। কেন্দ্রীয় অঞ্চলে নক্ষত্রের ঘনত্ব বেশি হওয়ায় সেখানে বিস্ফোরণ ও ক্ষতিকর বিকিরণের ঝুঁকি বেশি থাকে। সূর্যের বর্তমান অবস্থান তুলনামূলক শান্ত হওয়ায় পৃথিবীতে প্রাণের বিকাশ ও টিকে থাকা সহজ হয়েছে।
গবেষকেরা এখন সূর্যের যমজ নক্ষত্রগুলো আরও বিশদভাবে বিশ্লেষণ করছেন। তারা এমন নক্ষত্র খুঁজছেন, যেগুলোর রাসায়নিক গঠন সূর্যের সঙ্গে পুরোপুরি মিলে যায়। এর মাধ্যমে সূর্যের আদি জন্মস্থান নির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে।
সিএ/এমআর


