রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী বাসডুবির ঘটনায় চতুর্থ দিনের মতো যৌথ উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় ঘাটের পন্টুনটি অন্যত্র সরিয়ে ফেলার পর উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়। অভিযান চালানো হয় বাংলাদেশ নৌবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড এবং বিআইডব্লিউটিএর ডুবুরিদল সদস্যদের দ্বারা।
গত তিন দিন ধরে ফেরিঘাট ও আশপাশের এলাকায় উদ্ধার অভিযান চলে আসছে। তবে আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত নতুন করে কোনো লাশের সন্ধান পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার কার্যক্রমে ব্যবহৃত পন্টুনটি সাময়িকভাবে সরিয়ে তাৎক্ষণিক অনুসন্ধান করা হয় এবং বিকেলেই পূর্বের স্থানে পুনঃস্থাপন করা হয়।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন জানান, পন্টুনটি সরানোর উদ্দেশ্য ছিল এর নিচে ও আশপাশে ভালোভাবে অনুসন্ধান চালানো। রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের উপসহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা বলেন, উদ্ধার অভিযান এখনো চলমান। সরকারের বিভিন্ন বিভাগের ওপর মহল সার্বক্ষণিক তদারকি করছে। আজ সন্ধ্যার পর অভিযান স্থগিত থাকবে এবং রোববার সকাল থেকে পুনরায় কার্যক্রম চালানো হবে।
দুর্ঘটনার তদন্তে জেলা প্রশাসন থেকে পাঁচ সদস্য এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। শনিবার দুপুরে জেলা প্রশাসনের কমিটির পাঁচ সদস্য তিন নম্বর ফেরিঘাট এলাকা পরিদর্শন করেন। কমিটির আহ্বায়ক অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উছেন মে বলেন, প্রতিবেদন যথাসময়ে জমা দেওয়া হবে। প্রত্যক্ষদর্শী ও ফেরি ব্যবস্থাপনাসহ আধুনিকায়নের বিষয়গুলোও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
তদন্ত কমিটির সদস্যসচিব গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস জানান, বাসে আসনসংখ্যা অনুযায়ী ৪০ জন যাত্রী ছাড়াও চালক ও সহকারী ছিলেন। স্থানীয়ভাবে আরও কয়েকজন যাত্রী উঠেছিলেন। সঠিক যাত্রী সংখ্যা নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে কিছু যাত্রী নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
সিএ/এমই


