মদিনার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত বনি হারাম গোত্রের এলাকায় নির্মিত ‘মসজিদ বনি হারাম’ ইসলামের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান। খন্দক যুদ্ধের সময় এই অঞ্চলটি মুসলিম বাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি ছিল। তবে এই স্থানের সবচেয়ে স্মরণীয় ঘটনা হলো সাহাবি জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.)-এর ঘরে সংঘটিত এক অলৌকিক মেজবানি।
খন্দক যুদ্ধ ছিল মুসলিমদের জন্য কঠিন সময়ের একটি অধ্যায়। শত্রুপক্ষের সম্মিলিত আক্রমণ, তীব্র শীত এবং খাদ্য সংকটে সাহাবিরা কষ্টে দিন কাটাচ্ছিলেন। অনেকেই ক্ষুধা নিবারণের জন্য পেটে পাথর বেঁধে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এই পরিস্থিতিতে জাবির (রা.) লক্ষ্য করেন, নবীজি (সা.)-এর চেহারায় ক্লান্তি ও ক্ষুধার ছাপ স্পষ্ট।
তিনি গোপনে নবীজির জন্য খাবারের আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেন। বাড়িতে ফিরে জানতে পারেন, সামান্য বার্লি ও একটি ছোট বকরির ছানা ছাড়া তেমন কিছু নেই। তবুও তিনি তা দিয়েই খাবার প্রস্তুত করেন এবং নবীজিকে সীমিত কয়েকজনসহ দাওয়াত জানান।
কিন্তু নবীজি (সা.) পুরো পরিখা খননকারী দলকে সঙ্গে নিয়ে আসার ঘোষণা দেন। এতে জাবির (রা.) কিছুটা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়লেও তাঁর স্ত্রী আল্লাহর ওপর ভরসা রাখতে বলেন। পরে নবীজি (সা.) খাবারে বরকতের দোয়া করেন।
এরপর শুরু হয় বিস্ময়কর ঘটনা। অল্প খাবার দিয়েই বহু সাহাবি পর্যায়ক্রমে পেটভরে আহার করেন। প্রায় এক হাজার সাহাবি সেই খাবার গ্রহণ করেন, অথচ খাবার ফুরিয়ে যায়নি। এটি ইসলামের ইতিহাসে এক অলৌকিক নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত।
বর্তমানে ওই স্থানে নির্মিত মসজিদ বনি হারাম এই ঘটনার স্মৃতি বহন করে চলছে। এটি মুসলমানদের জন্য বিশ্বাস, ত্যাগ ও আল্লাহর রহমতের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।
সিএ/এমআর


