কোরআনের কোনো বিধান পরিবর্তন বা রহিত হওয়াকে ইসলামি পরিভাষায় ‘নাসখ’ বলা হয়। ইসলামের প্রারম্ভিক যুগে এই বিষয়টি নিয়ে মক্কার মুশরিকরা নানা বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল এবং ওহির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল।
তাদের অভিযোগ ছিল, মহানবী মুহাম্মদ (সা.) কখনো একটি নির্দেশ দেন, আবার পরে সেটি পরিবর্তন করেন। তারা এটিকে মানুষের তৈরি বক্তব্য বলে প্রচার করতে চেয়েছিল।
এই প্রেক্ষাপটে সুরা নাহলের ১০১ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘আর যখন আমি এক আয়াতের বদলে অন্য আয়াত উপস্থিত করি—আর আল্লাহ যা নাজিল করেন, সে সম্পর্কে তিনিই ভালো জানেন—তখন তারা বলে, আপনি তো কেবল একজন মিথ্যা রচনাকারী। আসলে তাদের অধিকাংশই জানে না।’ (সুরা নাহল, আয়াত: ১০১)
এই আয়াতের ব্যাখ্যায় আলেমরা বলেন, এখানে পূর্ববর্তী কোনো বিধান রহিত করে নতুন বিধান দেওয়ার বিষয়টি বোঝানো হয়েছে। অধিকাংশ তাফসিরকারের মতে, এটি কোরআনের আয়াত সম্পর্কেই প্রযোজ্য।
আয়াতে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে যে, কোন সময়ে কোন বিধান মানুষের জন্য কল্যাণকর, তা একমাত্র আল্লাহই ভালো জানেন। তাঁর প্রতিটি সিদ্ধান্তের পেছনে গভীর প্রজ্ঞা রয়েছে, যা মানুষের কাছে সবসময় স্পষ্ট নাও হতে পারে।
মুশরিকদের এই অভিযোগের জবাবে আল্লাহ তাদের অজ্ঞ বলে অভিহিত করেছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ সত্য জানলেও অহংকার ও হিংসার কারণে তা অস্বীকার করত।
পরবর্তী আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘বলুন, একে রুহুল কুদুস আপনার রবের পক্ষ থেকে সত্যসহ নাজিল করেছেন, যাতে ইমানদারদের সুদৃঢ় করেন এবং এটি মুসলমানদের জন্য পথনির্দেশ ও সুসংবাদ।’ (সুরা নাহল, আয়াত: ১০২)।
এখানে ‘রুহুল কুদুস’ বলতে ফেরেশতা জিবরাইল (আ.)-কে বোঝানো হয়েছে, যিনি আল্লাহর নির্দেশে কোরআনের বাণী পৌঁছে দেন। এর মাধ্যমে পরিষ্কার করা হয়েছে যে, নবী (সা.) নিজের থেকে কিছু বলেন না; বরং ওহির মাধ্যমে তা অবতীর্ণ হয়।
কোরআনের বিধান পরিবর্তনকে আল্লাহর সিদ্ধান্তের পরিবর্তন হিসেবে দেখা হয় না; বরং এটি মানবজাতির কল্যাণ ও পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে প্রদত্ত দিকনির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত।
সিএ/এমআর


