বিজ্ঞানের ইতিহাসে এমন কিছু আবিষ্কার রয়েছে, যা গবেষণাগারের সীমানা ছাড়িয়ে পরিণত হয়েছে আন্তর্জাতিক মর্যাদা ও আধিপত্যের প্রতীক হিসেবে। পর্যায় সারণির ১০৫ নম্বর মৌল ডুবনিয়াম তেমনই এক উদাহরণ। এটি কেবল একটি তেজস্ক্রিয় ধাতুই নয়, বরং স্নায়ুযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের বিজ্ঞানীদের মধ্যে নীরব প্রতিযোগিতার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল এই মৌলটি।
ডুবনিয়াম কোনো প্রাকৃতিক উৎস থেকে পাওয়া যায় না; এটি সম্পূর্ণ কৃত্রিমভাবে তৈরি একটি ট্রান্সইউরেনিয়াম মৌল। ১৯৬০ ও ৭০-এর দশকে এই মৌলের আবিষ্কার নিয়ে দুই পরাশক্তির মধ্যে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়, যা ‘ট্রান্সফার্মিয়াম যুদ্ধ’ নামে পরিচিত। ১৯৬৮ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের দুবনা শহরের জয়েন্ট ইনস্টিটিউট ফর নিউক্লিয়ার রিসার্চের গবেষকেরা দাবি করেন, তারা আমেরিসিয়াম-২৪৩–এর ওপর নিয়ন-২২ আয়ন নিক্ষেপ করে মৌলটির আইসোটোপ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন।
পরবর্তীতে ১৯৭০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের লরেন্স বার্কলে ল্যাবরেটরির বিজ্ঞানীরা অ্যালবার্ট ঘিয়রসোর নেতৃত্বে ক্যালিফোর্নিয়াম-২৪৯–এর ওপর নাইট্রোজেন-১৫ নিউক্লিয়াস প্রয়োগ করে একই মৌলের আইসোটোপ তৈরির দাবি জানান। তবে তারা সোভিয়েতদের গবেষণায় পর্যাপ্ত প্রমাণের ঘাটতির অভিযোগও তোলেন।
এই নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মতবিরোধ চলতে থাকে। শেষ পর্যন্ত ১৯৯৭ সালে আন্তর্জাতিক বিশুদ্ধ ও প্রয়োগিক রসায়ন ইউনিয়ন এই বিতর্কের অবসান ঘটায় এবং রাশিয়ার দুবনা শহরের নামানুসারে মৌলটির নাম নির্ধারণ করে ‘ডুবনিয়াম’।
ডুবনিয়াম গ্রুপ ৫–এর একটি অত্যন্ত তেজস্ক্রিয় ধাতু, যার বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে এখনো সীমিত তথ্য জানা গেছে। পরীক্ষাগারে অল্পসংখ্যক পরমাণু তৈরি করা সম্ভব হওয়ায় এর ব্যবহারিক প্রয়োগ এখনো নেই। মানবদেহ বা জীবজগতের সঙ্গে এর কোনো জৈবিক সম্পর্কও পাওয়া যায়নি। অতিরিক্ত তেজস্ক্রিয়তার কারণে এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
সিএ/এমআর


