ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে প্রতারণার কৌশলও দিন দিন জটিল হয়ে উঠছে। ইমেইল, এসএমএস বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে ভুয়া লিংকের মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে, যা ফিশিং স্ক্যাম নামে পরিচিত।
ফিশিং হলো এমন এক ধরনের সাইবার প্রতারণা, যেখানে প্রতারকরা নিজেদের পরিচয় গোপন রেখে ব্যাংক, মোবাইল অপারেটর বা পরিচিত প্রতিষ্ঠানের ছদ্মবেশ ধারণ করে। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীর পাসওয়ার্ড, ব্যাংক তথ্য বা অন্যান্য সংবেদনশীল ডেটা সংগ্রহ করা হয়।
সাধারণত অচেনা বা সন্দেহজনক প্রেরকের কাছ থেকে পাঠানো ইমেইল বা বার্তা ফিশিংয়ের অন্যতম লক্ষণ। অনেক সময় পরিচিত প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করা হলেও ইমেইল ঠিকানায় অসঙ্গতি থাকে, যা দেখে সতর্ক হওয়া জরুরি।
এছাড়া জরুরি বা ভয়ভীতি সৃষ্টিকারী বার্তা যেমন “এখনই অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাবে” বা “তাৎক্ষণিক ভেরিফাই করুন”—এ ধরনের ভাষা ব্যবহার করেও প্রতারকরা ব্যবহারকারীকে বিভ্রান্ত করে।
সন্দেহজনক লিংকও ফিশিংয়ের বড় ইঙ্গিত। অনেক ক্ষেত্রে আসল ওয়েবসাইটের মতো দেখতে ভুয়া লিংক তৈরি করা হয়, যেখানে বানানে সামান্য পরিবর্তন থাকে। পাশাপাশি কোনো প্রতিষ্ঠান ইমেইল বা বার্তায় পাসওয়ার্ড, ওটিপি বা ব্যাংক তথ্য চাইলে তা প্রতারণার ইঙ্গিত হিসেবে ধরা উচিত।
ফিশিং থেকে সুরক্ষার জন্য লিংকে ক্লিক করার আগে যাচাই করা, সরাসরি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করা, দুই ধাপ যাচাইকরণ চালু রাখা এবং নিয়মিত পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া অ্যান্টিভাইরাস আপডেট রাখা এবং সন্দেহজনক বার্তা রিপোর্ট করাও জরুরি।
ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সচেতনতা সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সিএ/এমআর


