মানুষের ঘুমের জগৎ কি নিজের ইচ্ছায় নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব—এ প্রশ্ন বহুদিনের। আধুনিক বিজ্ঞান বলছে, নির্দিষ্ট কিছু পদ্ধতি ও প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বপ্নকে আংশিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হতে পারে। এই ধারণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে লুসিড ড্রিমিং, যেখানে স্বপ্ন দেখার সময়ই একজন ব্যক্তি সচেতন থাকেন যে তিনি স্বপ্ন দেখছেন।
লুসিড ড্রিমিং এমন এক অভিজ্ঞতা, যেখানে ঘুমন্ত অবস্থায়ও মস্তিষ্কের কিছু অংশ সক্রিয় থাকে। এতে স্বপ্নদ্রষ্টা অনেক সময় নিজের ইচ্ছামতো স্বপ্নের ঘটনাপ্রবাহ পরিবর্তন করতে পারেন। কেউ হয়তো আকাশে উড়ছেন, আবার কেউ নিজের পছন্দমতো দৃশ্য তৈরি করছেন। এই অভিজ্ঞতাগুলো অনেক সময় বাস্তবের মতোই তীব্র ও অনুভূতিপূর্ণ বলে মনে হয়।
বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করেছেন, এই ধরনের স্বপ্নের সময় মস্তিষ্কের প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স সক্রিয় থাকে, যা সচেতন চিন্তা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। এ কারণে লুসিড ড্রিমিংকে সাধারণ স্বপ্ন থেকে আলাদা হিসেবে দেখা হয়। গবেষকেরা এখন এমন প্রযুক্তি তৈরির চেষ্টা করছেন, যা ঘুমের নির্দিষ্ট পর্যায় শনাক্ত করে আলো, শব্দ বা কম্পনের মাধ্যমে মস্তিষ্ককে সংকেত দিতে পারে। এতে স্বপ্নের মধ্যেই সচেতনতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
স্বপ্ন নিয়ন্ত্রণের সম্ভাব্য সুবিধাও কম নয়। বাস্তবে অসম্পূর্ণ থাকা ইচ্ছাগুলো স্বপ্নে পূরণ করার অনুভূতি পাওয়া যেতে পারে। এছাড়া জটিল সমস্যার সমাধান নিয়ে চিন্তা করা বা কোনো কাজের অনুশীলনও স্বপ্নের ভেতরে করা সম্ভব বলে কিছু গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। মানসিক চাপ, দুঃস্বপ্ন বা ট্রমা মোকাবিলাতেও এটি সহায়ক হতে পারে বলে ধারণা করা হয়।
তবে এই বিষয়ে সতর্ক থাকার কথাও বলছেন বিশেষজ্ঞরা। লুসিড ড্রিমিং নিয়ে গবেষণা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। সবার জন্য এই পদ্ধতি সমানভাবে কার্যকর বা নিরাপদ নাও হতে পারে। অতিরিক্ত চর্চা ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত করতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে বাস্তবতা ও স্বপ্নের মধ্যে বিভ্রান্তিও তৈরি হতে পারে। এমনকি কেউ কেউ বাস্তব জীবনের চেয়ে স্বপ্নের জগতকেই বেশি আকর্ষণীয় মনে করতে শুরু করতে পারেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ক্ষেত্রটি এখনো গবেষণাধীন। তাই সচেতনভাবে স্বপ্ন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করার আগে এর সীমাবদ্ধতা ও ঝুঁকিগুলো বিবেচনায় রাখা জরুরি।
সিএ/এমআর


